স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ‘কাটমানি’ বিতর্কে বিদ্ধ শাসক দল তৃণমূল৷ দলের মধ্যে থেকেই দলনেত্রীর মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল৷ জোড়াফুল শিবিরকে কটাক্ষে বিরোধীদের হাতেও টাটকা ইস্যু ‘কাটমানি’৷ অস্বস্তি কাটাতে এবার তাই মাঠে নামলেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ দলের অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেই তাঁর নিশানায় সাধারণ মানুষও৷

বিধানসভা অধিবেশনে এদিন ‘কাটমানি’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী বিধায়করা৷ সেই সময় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কাটমানি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের অপব্যবহার করা হচ্ছে৷ কাটমানি যারা নিয়েছেন ও দিয়েছেন তারা সমান দোষী৷’’ তাঁর প্রশ্ন যদি কেউ ‘কাটমানি’ নেওয়ার জন্য টাকার দাবি করেন তাহলে তাকে তা দেওয়া হল কেন? এক্ষেত্রে যিনি বা যারা দিয়েছেন তারাও সমান দোষী হবে না কেন? মন্ত্রীর মতে দোষ যে করে ও সহে তারা উভয়ই সমান দোষী৷

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, দলের অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের আড়াল করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়৷ এক্ষেত্রে তাঁর প্রতিশ্রুতি, দোষ করলে শাস্তি পেতেই হবে৷ পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে অভিযোগের যুক্তি থাকলে আইনানুগ পদক্ষেপ যেন করা হয়৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত ১৮ জুন নজরুলমঞ্চে কাটমানির বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তারপর থেকেই রাজ্যজুড়ে শাসক দলের জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ব্যাপক জনরোষ ছড়িয়ে পড়ে৷ কাটমানি ফেরতের দাবিতে সরব হতে দেখা যায় তাদের৷ বিরোধীরাও তৃণমূলের বিরুদ্ধে তলাবাজির অভিযোগ আনতে থাকেন৷ ফলে ব্যাপক অস্বস্তিতে পড়েন শাসক শিবিরের নেতৃত্ব৷ অনেকেই আবার একে নির্বাচনী কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের কৌশল বলে দাবি করেন৷ এই অবস্থায় কড়া অবস্থানে অনড় তৃণমূল মহাসচিব৷ তবে দায় ঠেললেন সাধারণ মানুষের দিকেও৷