স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: করোনা মোকাবিলায় রাস্তায় নেমেছেন বহু আগেই। আচমকা হাজির হয়েছেন কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের জোগান ঠিক আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে শহরের বাজর পরিদর্শন করতে দেখা গিয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে। নিজেই ইঁটের টুকরো দিয়ে রাস্তায় লক্ষণরেখা এঁকে দিলেন। শুধু তাই নয়, মাস্ক বিলি করতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। গত কয়েক দিনের কাজের নিরিখে ইতিমধ্যেই প্রশংসা অর্জন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এর আগে নবান্নে সর্বদলীয় বৈঠক থেকে শুরু করে বিনা পয়সায় রেশন সমস্ত কিছুকেই বাহবা দিয়েছেন সারা রাজ্যের মানুষ। সোশ্যাল মিডিয়াও ছেয়ে গিয়েছে মমতার তারিফে। তথাকথিত ‘বামপন্থী’-রাও এখন মমতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ফেসবুকে ঘুরছে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা রাজ্যবাসীর প্রশংসা সূচক নানা পোস্ট। করোনা মোকাবিলায় মমতার পথ অনুসরণ করেই পথ হাঁটার বার্তা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

তাঁর মতে, “আমাদের প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে যেভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সকলকে রক্ষা করবার লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন, এমনকি নবান্ন থেকেও প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের নির্দেশ এবং সাজেশন আমাদের কাছে আসছে তা এককথায় অভূতপূর্ব। আমি নিজে বেহালা অঞ্চলে ঘুরলাম। আমার নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে ঘুরেছি। মানুষের কতটা প্রয়োজন জেনেছি। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছি সরকারের পক্ষ থেকে। বিধায়ক হিসেবে আমার যা করণীয়, এমন কি কাউন্সিলরদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে আমরা এই করোনা যুদ্ধে মানুষের জয়ের জন্য, মানুষকে সুস্থ রাখার জন্য সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।”

ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে পার্থ আরও বলেন, “ইতিমধ্যেই আমাদের হেল্পলাইন চালু হয়েছে। গরিষ্ঠদের বাড়িতে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি। যাদের যতটুকু সাহায্য লাগবে আমাদের বলবেন। ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আমরা চাল ডাল এবং আলু বিতরণের ব্যবস্থা করেছি। আমি অভিভূত সাফাই কর্মীদের কাজে। পুলিশ প্রশাসনের কাজ এবং হাসপাতালে ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স যেভাবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তা এককথায় অতুলনীয়। আমি তাঁদের আমার কৃতজ্ঞতা জানাই।

অভিনন্দন জানাই এই দুঃসময়ের তারা নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ করে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।” মমতার মতোই তিনিও যে সাধারণ মানুষের পাশে আছেন সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে পার্থ বলেন, “চিন্তিত হবেন না। আতঙ্কিত হবেন না। সতর্ক থাকুন। বাড়িতে থাকুন। সুস্থ থাকুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের পাশে আছেন। বিধায়ক হিসেবে আমি আপনাদের পাশে আছি। আমরা সবাই আপনাদের পাশে আছি। ভালো থাকুন। ঘরে থাকবেন।”