স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দেবশ্রী রায়ের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে ৷ উনি এখনও তৃণমূল বিধায়ক৷ বুধবার বিধানসভায় রায়দিঘির বিধায়কের উপস্থিতি নিয়ে এই মন্তব্য করলেন দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ তবে নাম না করে শোভন-বৈশাখীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বিতর্ক তো ত্রিকোণ সম্পর্ক নিয়ে ৷ এতে কোনও রাজনীতি নেই ৷ দেবশ্রী রায়, শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে পাড়ার চায়ের ঠেক থেকে বঙ্গ রাজনীতির অন্দর-সর্বত্রই মুখরোচক আলোচনা চলছে ৷ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য যে সেই আলোচনায় রসদ জোগাবে তা বলাই বাহুল্য৷

বুধবার হঠাৎ বিধানসভায় উদয় হয় তৃণমূলের রায়দিঘির সাংসদ দেবশ্রী রায়ের। তিনি যোগ দেন স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে। তথ্য সংস্কৃতি ও স্বাধিকার (প্রিভিলেজ) কমিটির সদস্য দেবশ্রী। বৈঠক সেরে মহিলা বিধায়কদের জন্য বরাদ্দ ঘরে যান তিনি। সেখানেই ছিলেন কাশীপুর বেলগাছিয়ার বিধায়ক মালা সাহা, বউবাজারের বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, রাণিবাধের বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডি। সেখানেই বিধায়কদের সঙ্গে কথা বলেন দেবশ্রীর। সূত্রের খবর, দেবশ্রী ওই বিধায়কদের জানান, এক এনজিও দিল্লির বিজেপি অফিসে নিয়ে গিয়েছিল। বউবাজারে বাড়ি ভাঙা নিয়ে নয়নাকে প্রশ্ন করেন দেবশ্রী। অথচ সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা অধিবেশনে একদিনও দেখা যায়নি দেবশ্রীকে। তবে এদিন দেবশ্রী বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি তৃণমূলেই রয়েছেন৷

উল্লেখ্য, ১৪ অগাস্ট দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগদানের দিনই ঘটনাক্রমে নাটকীয় প্রবেশ ঘটে দেবশ্রী রায়ের। দেবশ্রীকে দেখেই তীব্র আপত্তি জানান একদা দেবশ্রীর বন্ধু শোভন চট্টোপাধ্যায়। শোভন-বৈশাখী এই ঘটনায় এতটাই ক্ষুব্ধ হন যে বিজেপি নেতৃত্বকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শোভন জানিয়ে দেন, দেবশ্রী রায় যেদিন যোগ দেবেন, সেদিনই তাঁর (শোভন) বিজেপিতে শেষ দিন হবে। এরপর ‘স্বাভাবিকভাবেই’ সেদিন আর দেবশ্রীর বিজেপিতে যোগদান সম্ভব হয়নি। সেই থেকেই বঙ্গ রাজনীতিতে দেবশ্রী রায়কে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়।

এরমধ্যেই একদিন রাত ১০টা নাগাদ সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বাড়িতে হাজির হন দেবশ্রী৷ যদিও দিলীপবাবু তখন বাড়িতে ছিলেন না। দিলীপবাবুর বাড়ির সামনে বেশ কিছুক্ষণ গাড়িতেই অপেক্ষা করেন তিনি। রাত বাড়লে সাক্ষাৎ না করেই এলাকা ছাড়েন।

তবে এরপরও দল যে আপাতত তাঁর পাশেই রয়েছে সেটা এদিন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কথাতেই স্পষ্ট৷