স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অনশন-ধরনা গত বৃহস্পতিবার ১৩ দিনে পড়ল। গত বুধবার বিধানসভায় ঘোষণা মত এদিন নজরুল মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির প্রাথমিক শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষকদের গ্রেড পে আগে ৩২০০ করার পরামর্শ দিলেও এদিন তা বাড়িয়ে ৩৬০০ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। অর্থের তহবিলের জোগানের বিষয়টি দেখছে রাজ্যের অর্থ মন্ত্রক।

গত বুধবার শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারের পক্ষে প্রাথমিক শিক্ষকদের যতটা পরিমাণ বেতন বাড়ানো সম্ভব, ততটাই বাড়ানো হবে। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে বেতন কতটা পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব হবে সেই বিষয়েই আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। নিয়ম না মেনে ১৪জনের বদলির যে অভিযোগ উঠেছিল সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়৷

আগে আশ্বাস পেয়েও পরে বেতন বৈষম্য না মেটার আভাস পেয়েই সল্টলেকে অবস্থানে সামিল হন প্রাথমিক শিক্ষকরা। অন্যান্য দাবি থাকলেও এই দাবিটাই তাদের প্রধান দাবি হিসেবে জানিয়েছেন সংগঠনের কর্মকর্তারা। এর মাঝেই একুশে জুলাই মুখ্যমন্ত্রীর “কেন্দ্রের হারে বেতন চাইলে দিল্লি চলে যান” বক্তব্যে আগুনে ঘি পড়েছিল প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন যজ্ঞে। তাই গতকাল বিধানসভায় শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা সেই আগুনে কিছুটা জল ঢালতে পেরেছিল বলেই মতামত পোষণ করেছিলেন বুদ্ধিজীবি মহল।

উস্তি ইউনাইটেড প্রাইমারি টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশেনর আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের দাবি অনুযায়ী ৪২০০ টাকার গ্রেড পে চালু করা সম্ভব নয় বলে আগেই জানিয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। তার কারণ হিসেবে পার্থবাবু জানান, ৪২০০ টাকার গ্রেড পে চালু করতে গেলে বাড়তি সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার কোটি টাকা লাগবে। এত টাকা রাজ্য সরকারের নেই। এদিন শিক্ষকদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিতে বলা হয়৷

প্রশ্ন অনেক-এর বিশেষ পর্ব 'দশভূজা'য় মুখোমুখি ঝুলন গোস্বামী।