ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপির থেকে সম্বর্ধনা নেওয়ার সময় ছেড়ে আসা তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেছিলেন, ‘‘বাম জমানার চেয়েও এখন অনেক বেশি সন্ত্রাস। জীবন বিপন্ন করে রাজনীতি করতে হচ্ছে বিরোধীদের। বাংলাকে সন্ত্রাসমুক্ত করার সময় এসেছে।’’ এরকম বাক্যবানে বিদ্ধ হয়েও শোভনের প্রতি কোনও কটূ মন্তব্য করল না তৃণমূল।

শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বিজেপিতে যোগদান প্রসঙ্গে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় শুধু বলেন, “শোভন চলে যাওয়ায় দলের কোনও ক্ষতি হয়নি। আমি চলে গেলেও কোন ক্ষতি হবে না। যতদিন মমতা সক্রিয় থাকবেন, ততদিন কে এল বা গেল তাতে কিছু আসে যায় না। সবই লতায়-পাতায় মমতাকে জড়িয়ে”।

সেইসঙ্গেই তৃণমূলের মহাসচিব প্রাক্তন সতীর্থকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “শোভন সুস্থ থাকুক এটাই চাই। চেষ্টা করেছি বিধায়ক হিসেবে ওঁকে ধরে রাখার। উনি ভালো বুঝেছেন তাই চলে গিয়েছেন।”

শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে ৬ জন তৃণমূল বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। আগে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ৫ বিধায়ককে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড করা হলেও, শোভন চট্টোপাধ্যায় দল ছাড়ার এক সপ্তাহ পরেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি তৃণমূল নেতৃত্ব। এদিন এব্যাপারে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “অন্যান্য দল থেকে বিধায়কদের যেমন জিজ্ঞাসা করা হয়। তেমনি শোভনের কাছে জানতে চাওয়া হবে।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, শোভন চট্টোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে অত্যন্ত স্নেহের ছিলেন সেটা দলের কারোরই অজানা নয়। দলে শোভনের অবদানের কথাও কেউ অস্বীকার করেন না। তাই তৃণমূলের পুরোনো সিনিয়র নেতারা সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া শোভনকে এখনই রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে ভাবতে পারছে না।