স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ফোন ট্যাপ নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় যে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তার প্রমাণ চাইল তৃণমূল নেতৃত্ব৷ রাজ্যপালের মন্তব্যের কয়েকঘণ্টার পরই পাল্টা মুখ খোলেন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জগদীপ ধনখড়কে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেন, কারা রাজ্যপালকে একথা বলেছেন। সেই তালিকা প্রকাশ করুন। ধনকড়কে কটাক্ষ করে পার্থ বলেন, “রাজনৈতিক নেতা হওয়ার চেষ্টা করেছেন রাজ্যপাল৷”

শনিবার ফোনে আড়ি পাতা নিয়ে মোদী সরকারকে আক্রমণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, “আমার ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে। আমি সেটা বুঝতেও পারছি। সব কিছুতেই নজরদারি চালানো হচ্ছে। এটা ঠিক নয়। সরকারি কাজকর্ম করতে ব্যাঘাত ঘটছে।”

মমতা আরও বলেন, “এটা ফ্যাক্ট যে ইজরায়েলের এনএসও সংস্থা ফোন ট্যাপ করার ওই সফটওয়্যার কেন্দ্রকে দিয়েছে। এর সঙ্গে দুটি রাজ্যের সরকারও যুক্ত আছে। আমি তাদের নাম বলব না। কিন্তু তারমধ্যে একটি রাজ্যে বিজেপি সরকার রয়েছে। এই ট্যাপ করার জন্য একটি বিশেষ গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে। সেই গাড়ির মধ্যে ওই সফটওয়্যার রয়েছে। গাড়ি যেখানে যাচ্ছে সেখানকার ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যে কারও ইচ্ছে ফোন ট্যাপ করা কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ থেকে তথ্য নিয়ে নিচ্ছে।” তিনি এও বলেন, শুধুমাত্র তাঁর নয়, রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী, আমলা, আইএএস, আইপিএস অফিসার, সাংবাদিক এমনকি বিচারপতিদের ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপেও আড়ি পাতা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

রবিবার একবালপুরে মাড়োয়ারি মহিলা সমিতির একটি অনুষ্ঠানে এবিষয়ে রাজ্যপালকে এবাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “কোন তথ্যের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী একথা বলছেন, তা উনিই বলতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কী তথ্য আছে, তা জানি না। তবে এরাজ্যেও গোপনীয়তা লঙ্খন নয়। অনেকেই আমাকে একথা বলেছেন।” রাজ্যপালের এই মন্তব্যের পরই শোরগোল পড়ে যায়। রাজ্যপালের এই মন্তব্যের পরই তাঁর কাছে অভিযোগকারীদের নামের তালিকা প্রকাশের দাবি জানান পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ এরই সঙ্গে রাজ্যপালের সমালোচনও করেছেন তিনি৷ পার্থ বলেন, “বিজেপি নেতারা যে কথাগুলো বলছে রাজ্যপালও সেই কথাই বলছেন৷ এত সম্মান দিচ্ছি ওনাকে তারপরও কী করে উনি এসব কথা বলছেন জানিনা৷ রাজ্যপাল কি বিজেপির রাজ্য সভাপতি হতে চাইছেন?”