স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: এবার থেকে তৃণমূলের মহাসচিব হিসেবে তিনি রাজ্যপালের কোনও মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেবেন না৷ রাজ্যপালের বিষয়ে যা বলার বলবেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান অর্থাৎ মুখ্যমন্ত্রী৷ মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে সেকথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় হেনস্তা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের সংঘাত শুরু হয়েছে৷ ক্রমশ সেই সংঘাত বাড়ছে৷ যেমন, মঙ্গলবার উত্তর চব্বিশ পরগনার ধামাখালিতে জেলাপরিষদের প্রশাসনিক ভবনে জেলার সমস্ত জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্তাদের বৈঠকে ডেকেছিলেন রাজ্যপাল। কিন্তু সেই বৈঠকে রাজ্য সরকারের তরফে কেউ উপস্থিত ছিল না।

জেলা প্রশাসনের এহেন ভূমিকায় উষ্মা প্রকাশ করে রাজ্যপাল ধনখড় বলেন, “এই বৈঠকের কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসনকে ১৭ অক্টোবর চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২১ অক্টোবর জেলাশাসক চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেন, রাজ্য সরকারের অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত কোনও জনপ্রতিনিধিকে বৈঠকে ডাকতে পারবেন না।”

রাজ্যপাল আরও বলেন, “ওই চিঠিতে আরও লেখা হয়েছে ২১-২৩ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে। সমস্ত শীর্ষ আধিকারিক সেখানেই রয়েছেন। ফলে তাঁরা আসতে পারবেন না।” এর পরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আমি কি রাজ্য সরকারের অধস্তন? কারও সঙ্গে বৈঠক করতে গেলে রাজ্য সরকারের অনুমতি নিতে হবে?রাজ্যপাল কথা বলতে চাইলে সরকারের অনুমতি লাগবে কেন? ” তোপ দেগে রাজ্যপাল আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে যেতেই পারেন কিন্তু তার জন্য সরকার ছুটিতে চলে যেতে পারে না।”

রাজ্যপালের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয় তৃণমূলের মহাসচিব তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী বলেন, রাজ্যপাল যা বলবেন তার সব উত্তর কি আমাকে দিতে হবে? আমি রাজ্যপালের কোনও কথার আর জবাব দেব না৷ যা বলার রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান দেবেন৷

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাজ্যপাল যেভাবে রাজ্য সরকারের সমালোচনায় সরব হচ্ছেন তাতে পরিষ্কার ধনকড়ের আমলে মমতার প্রশাসনকে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে৷ তৃণমূল নেতৃত্বও সেকথা বুঝে গিয়েছে৷ তাই তৃণমূল এখন রাজ্যপালকে খুব সাবধানে হ্যান্ডল করতে চাইছে৷ দলের পক্ষ থেকে বেফাঁস মন্তব্য করে কোনও ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না৷ যার সুযোগ বিজেপি নেবে৷ সরকারের পক্ষ থেকেই রাজ্যপালের বিষয়টি দেখা হবে৷