স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়কে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের মহাসচিব তথা পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ তিনি বলেন, “সংবিধানের সত্তর বছর পূর্তির পরও আমাদের ব্যবহার জমিদারের মত। লাটসাহেবের মত। সংবিধান এই অধিকার কি তাঁকে দিয়েছে? নির্বাচিত সরকারি প্রধানকে হেয় করা কি সাংবিধানিক?”

রাজ্যপালকে বড়লাট বলেও কটাক্ষ পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, রাজভবন পরিচালনার খরচ গত ২৩ বছরে আড়াই গুণ বেড়ে গিয়েছে। আগে শহরের এই অঞ্চলকে বলা হতো বড়লাটের অঞ্চল। এখনও সেই লাটসাহেব দেখা যাচ্ছে। এরই সঙ্গে রাজ্যপাল পদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন তিনি।

মঙ্গলবার বিধানসভায় সংবিধান দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গে মুখোমুখি হয়েও কোনও কথা বলেননি রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়।মুখ্যমন্ত্রীর দিকে একবারের জন্যও তাকাননি৷ এরপর নিজের ভাষণে নাম না করে তৃণমূল সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন ধনখড়। কোনওরকম রাখঢাক না করে তিনি বলেন, ”পশ্চিমবঙ্গে কার্যত চ্যালেঞ্জের মুখে কাজ করতে হচ্ছে আমাকে। সাংবিধানিক অধিকারের সঙ্গে সমঝোতা করতে হচ্ছে।” এমনকি এই অনুষ্ঠানে তাঁকে শেষ মুহূর্তে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলেও জানান৷

এরপর বাংলার প্রসঙ্গে না গিয়ে মোদীর-কাশ্মীর নীতির ঢালাও স্তুতি করলেন রাজ্যপাল ধনকড়। তাঁর কথায়, ”কাশ্মীরে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নকে সফল করেছেন নরেন্দ্র মোদী। তাঁকে জঙ্গি দমনে সমর্থন করা উচিত।”

এরপর বুধবার টুইটে ধনকড় লেখেন, “আমার সবচেয়ে অদ্ভূত লাগল, যখন আমি বিধানসভায় গেলাম, মুখ্যমন্ত্রী উদাসীন রইলেন। আমি যখন বি আর আম্বেদরের মূর্তিতে মালা দিতে যাচ্ছিলাম,তখনও বিধানসভার নেতা হিসাবে এগিয়ে আসেননি মুখ্যমন্ত্রী। আমি এটা আশা করিনি। আমি সবার সঙ্গে কথা বলেছি, যাঁরা সৌজন্য দেখাতে এগিয়ে আসেন। আমি কখনওই কাউকে সৌজন্য দেখাতে কুণ্ঠাবোধ করি না। বিশেষত মুখ্যমন্ত্রী, যাঁর প্রতি আমার ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা অগাধ। আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম, মুখ্যমন্ত্রী পুরোপুরি উদাসীন রইলেন।”

ধনকড়ের এই ট্যুইটের পরই তাঁকে আক্রমণ করেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ শুধু পরিষদীয় মন্ত্রীই নন, পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও এদিন রাজ্যপালকে আক্রমণ করেছেন৷