নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: সোমবার টানটান উত্তেজনার মধ্যেই যেন নবান্নে শুরু হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুনিয়র টিকিৎসকদের বৈঠক৷ এছাড়া এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য৷ রয়েছেন মুখ্য ও স্বরাষ্ট্র সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সহ আরও অনেকেই৷ সেখানেই নিরাপত্তা থেকে শুরু করে একগুচ্ছ প্রয়োজনীয় দাবির কথা জানান জুনিয়র চিকিৎসকেরা৷

মেডিক্যাল কলেজের এক জুনিয়র ডাক্তার বলেন, ‘অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে আন্দোলন৷ আমাদের ভয়ের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে৷ ডাক্তারদের মারধর স্পর্ধায় পরিণত হয়েছে৷ এমন পদক্ষেপ হোক যাতে সবার কাছে বার্তা যায়৷ অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে এই আন্দোলন করতে হয়েছে৷ ১২ দফা আর্জি নিয়ে আমরা এসেছি৷’ সেই সঙ্গে আহত চিকিৎসক পরিবহ মুখোপাধ্যায়কে দেখতে যাওয়ার অনুরোধের পাশাপাশি ‘অনেক সময় রাজনৈতির দলের নেতারাও হাসপাতালে গিয়ে সমস্যার সৃষ্টি করেন’, মুখ্যমন্ত্রীকে এমন অভিযোগও জানালেন জুনিয়র ডাক্তাররা, এবং তা ‘জেনুইন প্রবলেম’ বলে স্বীকার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সচেতনতার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টার পরামর্শও দিলেন তিনি৷

বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী এই আলোচনাকে ফলপ্রসূ বলে জানান এবং বলেন, ‘ডাক্তারদের আমরা ভগবানের মতো শ্রদ্ধা করি৷ পুরো ঘটনায় বহু মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে৷ তোমাদের দাবিগুলো ঠিক৷ এইধরণের ঘটনা যাতে না ঘটে প্রথমে দেখতে হবে৷ হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেবে সরকার৷ আমার অনুরোধ, সরকারের সমালোচনা কর৷ কিন্তু কাজে যোগ দাও৷’ মাথা ঠাণ্ডা করে ভালো করে কাজ করার আবেদনও জানান মুখ্যমন্ত্রী৷

এনআরএস কাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য পরিষেবায় টালমাটাল পরিস্থিতি৷ অবশেষে নবান্নে সোমবার বৈঠকের পর সেই জট কাটতে চলেছে৷ আর এই প্রসঙ্গেই তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ফেসবুকে লেখেন, ‘সত্যি আমি খুব খুশি হয়েছি আমার ছোট ছোট ভাই বোনেরা যেভাবে নবান্নতে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তাদের বিষয়গুলি নির্ভীক হবে তুলে ধরেছে এবং মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী ধৈর্যের সঙ্গে অভিভাবকের মতো তাদের কথা শুনেছেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তাদের সামনে নির্দেশ দিয়েছেন এই কদিন ধরে ডাক্তারদের নিরাপত্তাজনিত কারণে যে অচলায়তনের তৈরি হয়েছিল রোগীদের এবং তাদের পরিবার দের অসহনীয় অবস্থার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছিল তার সমাধানের আলোর দেখা দিয়েছে আজকের বৈঠকের পর আমরা আশা করব এরপর থেকে প্রশাসন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালে যুক্ত ডাক্তার নার্সসহ রোগীদের পরিবার সবাই মিলে 1 সুন্দর পরিবেশের মধ্য দিয়ে কাজ করবার মানুষের সেবার এই মহৎ কাণ্ডে নিশ্চয়ই তাদের স্পর্শে রোগগ্রস্ত মানুষেরা দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরবেন৷’

যদিও গতকালই তিনি চিকিৎসকদের এই আন্দোলন নিয়ে তিনি ফেসবুকেই লিখেছিলেন, ‘আমি সত্যিই বিস্মিত ও মর্মাহত যে ছোট ছোট ভাই বোনেরা অহেতুক হাসপাতালগুলো পরিষেবা কর্মবিরতি পালন করে রোগীদের বিপদগ্রস্ত করছে তারা কি একবারও ভেবে দেখবে না যে তাদের উপর মানুষের সেবার দায়িত্ব আছে যেমন প্রশাসনের দায়িত্ব আছে রোগী ও হাসপাতালে যুক্ত সকলের কিভাবে নিরাপত্তা রক্ষা করা যায় তা দেখা আজকের এই অচল আয়তন ডাক্তারদের দাবি যদি হতো তাহলে বুঝতে কষ্ট হতো না কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তাদের এই কর্মবিরতির পেছনে কারো কারো অভিসন্ধি আছে তার যথেষ্ট প্রমাণ আমার হাতে আছে আন্দোলনকারীরা কি করে অবিশ্বাস করছেন রাজ্যের সংবাদ মাধ্যমকে না হলে অযথা শর্ত দিয়ে জাতীয় সংবাদ মাধ্যমকে সাক্ষী রাখতে চাচ্ছেন কেন কিসের প্রয়োজনে তাদের দাবি যথেষ্ট ধৈর্য সহকারে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসন সমাধানের পথে পদক্ষেপ নিয়েছেন এরপরেও অযথা একটার পর একটা সত্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদটিকে অসম্মান করছেন কেন প্রশাসন এগিয়ে এসে যখন তাদের মূল বিষয় গুলি সমাধান করেছেন তখন তাদের রোগীদের কথা চিন্তা করে মানবিক দৃষ্টি ভঙ্গিতে অবিলম্বে কর্মবিরতি তুলে কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানাই বারবার শর্ত চাপিয়ে মানুষের সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত হবেন না শুভবুদ্ধি আপনাদের মধ্যে উদয় হোক মানুষ পাশে থাকবে’ মানুষকে অসুবিধে তে পেলে শর্ত চাপিয়ে অযথা সময় নষ্ট করবেন না৷’

সোমবার মুখ্যমন্ত্রী-জুনিয়র চিকিৎসকদের বৈঠকের পর দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জট কাটতে পারে এবং জনসাধারণ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন বলেই আশা করা হচ্ছে৷