স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: অবশেষে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা গ্রহণ করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ইস্তফা প্রত্যাখ্যানের ১২ দিনের মাথায় ইস্তফা গৃহিত হওয়ায় শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অসৌজন্যতার অভিযোগ তুলেছেন। নতুন টিচার ইনচার্চ নিযুক্ত করা হয়েছে পারভিন কউরকে।

কলেজের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে দু-দুবার বৈশাখীর ইস্তফা গ্রহণ করেননি পার্থ চট্টোপাধ্যায়।৫ তারিখে ই-মেল করে ফের পার্থকে পদত্যাগপত্র পাঠান বৈশাখী। সে বারেও পার্থ জানিয়ে দেন যে, ইস্তফা তিনি গ্রহণ করছেন না। মিল্লি আল-আমিন কলেজের সমস্যার সমাধান দ্রুত করার আশ্বাস তিনি ফের বৈশাখীকে সে দিন দেন বলে জানা গিয়েছিল।

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘‘রাজনীতি বা আমার শিক্ষকতা, অসম্মান নিয়ে কোনওটাই যে করা সম্ভব নয়, তা আমি তো একাধিক বার বলেছি। রাজনীতি থেকে আগেই নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলাম। কলেজের পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে সেখানেও যে আর থাকতে চাই না, তা-ও শিক্ষামন্ত্রীকে বার বার জানিয়েছিলাম। শিক্ষামন্ত্রীই আমার ইস্তফা নিতে চাননি। বার বার ইস্তফা ফিরিয়ে দিয়েছেন। বার বার আশ্বস্ত করেছেন যে, কলেজের সমস্যার সমাধান দ্রুত করা হবে। কিন্তু আজ আচমকা জানলাম, আমার ইস্তফা গৃহীত হয়েছে। সেটাও নতুন টিচার ইনচার্জের কাছ থেকে জানলাম।’’

বৈশাখী আরও বলেন,‘‘তিনি যে সিদ্ধান্ত বদলেছেন, তিনি যে আমার ইস্তফা গ্রহণ করছেন, তা আমাকে জানানোর ন্যূনতম প্রয়োজন মনে করলেন না।’’

শোভন চট্টোপাধ্যায় মন্ত্রিত্ব এবং মেয়র পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন গত বছর। পরে তৃণমূলই ছেড়ে দেন। এ দিন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা গৃহীত হওয়ার পর শোভন বলেন, ‘‘গত সপ্তাহেও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো হল যে, ইস্তফা গ্রহণ করা হবে না, কলেজের সমস্যার সমাধান দ্রুত করা হবে। তা হলে এই ক’দিনে কী পরিস্থিতি তৈরি হল বা অবস্থার কী এমন পরিবর্তন হল যে, আচমকা এ ভাবে কিছুই না জানিয়ে ইস্তফা গৃহীত হয়ে গেল?’’

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, বৈশাখীর ইস্তফা গ্রহণ হওয়ার পর শোভনের রাজনৈতিক ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ভাইফোঁটার দিন কালীঘাটে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়েছিলেন শোভন-বৈশাখী। ওইদিনই শোভনের তৃণমূলে ফেরার জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এদিনের পর অনেকেই বলছে, তাহলে কি তৃণমূলে ফেরার রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল শোভনের, প্রশ্ন উঠছে।