নয়াদিল্লি : আধা সামরিক বাহিনীর সদর দফতরের পর এবার করোনা হামলা ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদর দফতরে। দফতরের এক কর্মী করোনা পজেটিভ হওয়ায় দফতরের একাংশ সিল করে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির সেনা ভবনে এক কর্মীর করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে দেওয়া হয় ভবনের একাংশ। ওই অংশে স্যানিটাইজেশনের কাজ চলবে বলে জানানো হয়েছে। শুক্রবার এই খবর প্রকাশ্যে আসে।

এদিকে, ১৩ই মে এক সেনা জওয়ানের করোনা পজেটিভ ধরা পড়ে। তিনি আত্মহত্যা করেন। জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার গোটা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেনা প্রধান এম এমএম নারাভানে বলেন কোভিড-১৯য়ের সঙ্গে মোকাবিলা করতে তৈরি রয়েছে সেনা।

নারাভানে বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার কাজ হোক বা দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের সেবা, সেনা যে কোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি রয়েছে। চৌঠা মে সেনা হাসপাতালটিকে পুরোপুরি স্যানিটাইজ করার কাজ চলে। কারণ জানা যায় ওই হাসপাতালে ভর্তি রোগিদের মধ্যে ২৪ জন করোনা পজেটিভ। এদিকে, তেসরা এপ্রিল নয়াদিল্লিতে সিআরপিএফের সদর দফতরে করোনা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ করে দেওয়া হয় দফতর।

জানা যায় ওই বিল্ডিংয়ের গাড়ির এক চালক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতেই দফতরটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গোটা বিল্ডিংটিকে স্যানিটাইজ করা হয়। কাউকেই ওই বিল্ডিংয়ে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। রাজধানীর লোধি রোড এলাকায় অবস্থিত সিআরপিএফের সদর দফতর। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত প্রবেশাধিকার বন্ধ করে হয়।

সিআরপিএফের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিআরপিএফ জওয়ানদের মধ্যে। একধাক্কায় আক্রান্তের সংখ্যা ছুঁয়েছে ১২২। মাত্র ২ সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন শতাধিক জওয়ান। দিল্লির ময়ূর বিহারে সিআরপিএফের ৩১ নম্বর ব্যাটেলিয়নের ১২২ জওয়ান কোভিড- ১৯ এর শিকার। আরও ১০০ জন জওয়ানের শরীর থেকে নমুনা নিয়ে করোনা টেস্টের জন্যে পাঠানো হয়েছে, এখনও রেজাল্ট আসেনি।

গত ২৩ এপ্রিল করোনা ভাইরাসে ৫৫ বছর বয়সী একজন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে ইতিমধ্যেই। একই ব্যাটেলিয়নের আরও ৪৫ জন সেনা করোনায় সংক্রমিত হন, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে ১২২-এ পৌঁছে গিয়েছে। সতর্কতা হিসাবে, ওই ব্যাটেলিয়নের সমস্ত জওয়ানকেই কোয়ারান্টাইন করে রাখা হয় এবং তাঁদের শরীর থেকে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব