ফাইল ছবি৷

নয়াদিল্লি: রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বুধবার কড়া ভাষায় কংগ্রেস ও গান্ধী পরিবারকে আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তিনি বলেন, নিজের হার মানতে না পেরে দেশের মানুষের জনাদেশকে অপমান করছে কংগ্রেস৷ তারা বলছে বিজেপির জেতা মানে গণতন্ত্রের হার৷ মোদীর পালটা প্রশ্ন তার মানে কংগ্রেস বলতে চাইছে কংগ্রেস জিতলে দেশের জয় হত?

এদিন প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন একটা রাজনৈতিক দলের এত অহঙ্কার কীসের? রায়বরেলি, ওয়ানাডে বা তামিলনাড়ু বা কেরলেও কংগ্রেসের এই তত্ব খাটবে তো? কারণ কংগ্রেসের তত্ব অনুযায়ী বাকি গোটা দেশে হার হয়েছে গণতন্ত্রের? গণতন্ত্রের ওপরে ও দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপরে অনাস্থা দেখিয়ে কংগ্রেস পরোক্ষে দেশের মানুষকেই অপমান করেছে বলে মত মোদীর৷

মোদী এদিন রাজ্যসভায় বলেন কংগ্রেস কি সেই পুরোনো ভারত চাইছে? যেখানে নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হত, যেখানে দুর্নীতির ছবি থাকত দেশের অর্থনীতির মানচিত্র জুড়ে? নতুন ভারত তাহলে কংগ্রেসের ভবিষ্যত নয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী৷

আরও পড়ুন : ৪০ টাকায় মিলছে পেট্রোল, প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি তেল বানাচ্ছেন ইঞ্জিনিয়ার

ভারতের মত বৈচিত্র্যময় দেশে কোনও একটি দল সংখ্যগরিষ্ঠতা পেয়েছে, যা শক্তিশালি গণতন্ত্রের প্রতীক বলে মত ব্যক্ত করেন মোদী৷ এদিন তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ঝাড়খণ্ডের গণপিটুনির ঘটনা৷ তিনি বলেন এই ধরণের ঘটনা ব্যথা দেয় তাঁকে৷ কিন্তু তার মানে এই নয় যে রাজ্যসভায় বসে বলে দেওয়া যায় ঝাড়খণ্ড গণপিটুনির আখড়া রাজ্য৷ এই ধরণের ঘটনা কম বেশি সব রাজ্যেই দেখা যায়৷ গোটা রাজ্যকে এভাবে অপমান করা সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী৷ এদিন মোদীর বক্তব্যে উঠে আসে বিহারে এনসেফেলাইটিসে শিশু মৃত্যুর ঘটনাও৷

এদিন রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখার আগে গোটা দেশের মানুষকে জয়ের জন্য ধন্যবাদ জানান মোদী৷ কিন্তু ইভিএমের ব্যবহার নিয়ে কেন প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা, তার বিরোধিতা করেন মোদী৷ বলেন এই ইভিএম দিয়েই বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, সেখানে ফলাফল নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলছে না৷ অথচ বিজেপির জয়ে সবার মাথাব্যথা৷ হার স্বীকার করতে কেন বিরোধীরা পারছেন না বলে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ তিনি বলেন ১৯৭৭ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক ভাবে ইভিএম নিয়ে আলোচনা শুরু হয়৷ যার প্রথম ব্যবহার হয় ১৯৮৮ সালে৷

আরও পড়ুন : পুরকর্মীদের ব্যাট দিয়ে পেটালেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়র পুত্র

এর আগেও কংগ্রেসকে অহঙ্কারি বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন মোদী৷ বিতর্কের সূত্রপাত ১৯৮৪-র শিখদাঙ্গা নিয়ে স্যাম পিত্রোদার মন্তবে৷ সম্প্রতি পঞ্জাবের স্বর্ণ মন্দিরে গিয়েছিলেন অনাবাসী ভারতীয়দের কংগ্রেস সংগঠনের এই নেতা৷ ১৯৮৪ সালের ভয়াবহ শিখ দাঙ্গা নিয়ে স্যাম পিত্রোদা বলেন, ‘‘সেই সময় ঘটনা ঘটেছিল, তো কী হয়েছে?’’

পিত্রোদার এই মন্তব্য ঘিরেই সরব হয় গেরুয়া বাহিনী৷ প্রায় সাড়ে তিন দশক আগের সেই ঘটনাকেই পুঁজি করেন প্রধানমন্ত্রী৷ রোহতকে প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘দাঙ্গা হলেও অনুশোচনা নেই৷ উলটে অহঙ্কারের সঙ্গে কংগ্রেসর এক প্রথম সারির নেতা বলছেন ঘটনা ঘটেছিল, তো কী হয়েছে? স্পষ্ট হচ্ছে এটা শুধু ওই নেতার ব্যক্তিগত বিষয় নয়৷ পুরো কংগ্রেস দলটাই অহঙ্কারে ভরা৷ এটাই কংগ্রেসের চরিত্র ও মানসিকতা৷’’