নয়াদিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে বিজেপি নেতার বিস্ফোরক নিদানের জেরে বুধবার উত্তাল হল সংসদ ভবন ৷ জিরো আওয়ারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি নেতার এহেন মন্তব্য নিয়ে সরব হন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়৷ তৃণমূল সাংসদ বক্তব্য রাখার সময়ই সরব হন বিজেপি সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়৷ এদিকে বিজেপি নেতার এহেন মন্তব্য নিয়েও সংসদে সরব হন বিএসপি সাংসদ মায়াবতী ও সমাজ বাদী পার্টির সাংসদ জয়া বচ্চন৷

আরও পড়ুন: মমতার মাথার দাম ঘোষণা করলেন বিজেপি নেতা

এদিন সংসদে তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা প্রসঙ্গে খোলাখুলি মাথা কাটার নিদান দিচ্ছে বিজেপি নেতা৷ এই দেশে কোনও আইন শৃঙ্খলা নেই৷ এই ধরনের উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য ওই নেতার দল, বিজেপির ইন্ধন রয়েছে বলেও সরব হন তিনি৷ যদিও তৃণমূল সাংসদের এহেন মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ মুখতার আব্বাস নাকভি৷ তিনি বলেন, এই ধরনের মন্তব্য কখনোই দল সমর্থন করে না৷ ‘‘এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্য যেকোনও আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে৷’’ ইতিমধ্যে বিতর্কিত মন্তব্য করায় ওই নেতার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে বলেও জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷

আরও পড়ুন: মমতার মাথার দামের গেরুয়া ফতোয়ায় তীব্র নিন্দায় বুদ্ধিজীবীরা

এদিকে বিজেপি নেতার মন্তব্য নিয়ে রাজ্য সভায় তুমুল হই চই জুড়ে দেয় অন্যান্য বিরোধী দলের সাংসদরাও৷ এই বিষয়ে বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেত্রী মায়াবতী বলেন, ‘‘শুধুমাত্র এই মন্তব্যের নিন্দা করলেই হবে না৷ এই বিষয়ে বিজেপিকে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে৷’’ যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বার বার সংসদে দাবি করেন, যেহেতু এই বিষয়ে ইতিমধ্যে নিন্দা জানানো হয়েছে এবং পুলিশকেও পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে তাই নতুন করে আর এই নিয়ে আলোচনার কোনও প্রয়োজন নেই৷ তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কোনও কথাই এদিন কানে তোলে না বিরোধীরা৷সমাজবাদী পার্টির সাংসদ জয়া বচ্চন বলেন, ‘‘বিজেপি সরকার গো-রক্ষা নিয়ে কথা বলে৷ অথচ মহিলাদের নিরাপত্তা দিতেই জানে না৷’’ দলের নেতার এহেন মন্তব্য নিয়ে এখনও পদক্ষেপ নেওয়া হল না তা নিয়েও এদিন জোর সওয়াল করেন জয়া৷

আরও পড়ুন: মমতার মাথার দাম: দিলীপ ঘোষের মতে ‘এটাই পাওনা ছিল’

প্রসঙ্গত উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ের বিজেপির তরুণ নেতা যোগেশ ভারসন এক সংবাদ সংস্থার মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে একটি ফতোয়া দেয়৷ যুব ওই নেতা বলে , যে ব্যক্তি মমতার মাথা কেটে আনতে পারবে তাকে ১১ লক্ষ টাকা পুরষ্কার দেওয়া হবে৷ যুব নেতার এহেন মন্তব্য নিয়েই রেরে করে ওঠে রাজনৈতিক মহল৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.