স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ‘সাজানো ঘটনা’য় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন সুজেট জর্ডন৷ অথচ, ওই ‘সাজানো ঘটনা’-র-ই জেরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমা চাওয়ার আর্জি জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্যও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আর্জি রেখেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি৷ স্বাভাবিক ভাবেই, অধীররঞ্জন চৌধুরীর এমন আর্জিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলের বিভিন্ন অংশে একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে সংশয় এবং প্রশ্ন৷

আরও পড়ুন: ‘সাজানো ঘটনা’র সমাপতনে কোথায় গেলেন সুজেট!

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির বিভিন্ন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে বিভিন্ন উপায়ে শাসকদলে যোগদান করানোর প্রক্রিয়া জারি রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ যার জেরে আবার গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে সচেতন নাগরিক মহলের বিভিন্ন অংশে৷ শাসকদলের তরফে বিভিন্ন বিরোধী দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দলত্যাগ করানোর এই প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েনি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির গড় হিসেবে পরিচিত মুর্শিদাবাদ জেলাও৷ আর, এই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যেই ‘সাজানো ঘটনা’র জেরে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে, সুজেট জর্ডনের পরিবার এবং বাংলার মানুষের কাছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমা চাওয়ার আর্জি জানিয়েছেন অধীররঞ্জন চৌধুরী৷ সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে কী বলেছেন তিনি?

আরও পড়ুন: দলবদলের সঙ্গেই বাতিল করতে হবে জনপ্রতিনিধি-পদ

টুইটার এবং ফেসবুকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এমনই মন্তব্য করেছেন যে, ‘মনে করুন বাংলার মানুষ– সেই ‘পার্ক স্ট্রিটকাণ্ড’৷ একজন মহিলাকে জোর করে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ৷ ‘দিদি’ বললেন ‘সাজানো ঘটনা’, পুলিশ অফিসার দময়ন্তী সেন বললেন– ধর্ষণ৷ ধর্ষক গ্রেফতার হল সাড়ে চার বছর পর, ধর্ষিতা মহিলা মারা গিয়েছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী, একজন মহিলা মিথ্যে করে বলে না তিনি ধর্ষিতা, আপনি ক্ষমা চান, আপনার ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করুন৷ ক্ষমা চান সেই পরিবার আর বাংলার মানুষের কাছে৷’ পার্ক স্ট্রিটকাণ্ডের দুই অভিযুক্ত কাদের খান এবং আলি খানকে শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ এই দু’জনের মধ্যে কাদের খান অন্যতম অভিযুক্ত৷ ২০১৫-র ডিসেম্বরে পার্ক স্ট্রিটকাণ্ডে রুমন খান, নাসির খান এবং সুমিত বাজাজের ন্যূনতম সাজা অর্থাৎ, ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে৷

আরও পড়ুন: সারদাকাণ্ডে এক সাংবাদিকের আত্মহত্যা এবং মিডিয়া

এই তিনজনের সর্বোচ্চ সাজার আর্জি জানিয়ে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে সুজেট জর্ডনের পরিবার৷ সরকারের তরফেও একই আর্জি জানিয়ে মামলা করা হয়েছে৷ অথচ, ২০১২-র পাঁচ ফেব্রুয়ারি রাতে সুজেট জর্ডনের উপর নারকীয় অত্যাচারের জেরে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনই মন্তব্য করেছিলেন, ‘সাজানো ঘটনা’৷ যদিও, এমন মন্তব্য সত্ত্বেও সুজেট জর্ডন একসময় মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা করে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন৷ তিনি এমনও বলেছিলেন, কেউ ভুল করতে পারেন৷ তবে, সেই ভুলকে তিনি আঁকড়ে থাকবেন না৷ তবে, শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রী-ও নন৷ সুজেট জর্ডন কেন মদ্যপান করেছিলেন, কেন তিনি একা নাইট ক্লাবে গিয়েছিলেন, এমন বিভিন্ন ধরনের মন্তব্যও যেমন সেই সময় করেছিলেন এ রাজ্যের শাসকদলের হয় কোনও সংসদ সদস্য নয়তো কোনও মন্ত্রী অথবা নেতা৷ তেমনই, সুজেট জর্ডনকে একজন ‘যৌনকর্মী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিতেও সেই সময় শাসকদলেরই হয় কোনও সংসদ সদস্য, নয়তো কোনও মন্ত্রী অথবা নেতার তৎপরতাও কম দেখা যায়নি৷ সুজেট জর্ডনের চরিত্র নিয়েও সেই সময় প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও কোনও বুদ্ধিজীবী৷arc-twt-01-10-01

_____________________________________________________________________

আরও পড়ুন:
(০১) শান্তির খোঁজে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে যৌনকর্মীদের পুজোর টাকা
(০২) বাংলাদেশের মতো হতে চাইছে ভারতের বাংলা!
(০৩) Auto-Crazy যাত্রীর জন্যই চালক জারি রাখে Autocracy
(০৪) শিক্ষক হওয়ার জন্য চাকরি ছাড়তে হচ্ছে চিকিৎসকদের
(০৫) সিলেবাসে চাই ওষুধবিজ্ঞান, পাঠে মগ্ন স্কুল-পড়ুয়ারা
(০৬) ৪.৫ কোটি ভুক্তভোগীতেও চাপা পড়ে যাবে সারদাকাণ্ড!

_____________________________________________________________________