কলকাতা: যখন হায়দ্রাবাদের গণধর্ষণ এবং উন্নাও গণধর্ষণের ঘটনায় সারা দেশের মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে, দেশব্যাপী যখন প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে ঠিক সেই সময়ই আরো একবার প্রশ্ন তুলে দিলো সরকারের অসহযোগিতা নিয়ে। ২০১২ সালের ঘটে যাওয়া এক সন্ধ্যায় পার্কস্ট্রিটে একটি মারুতি ভ্যান এর মধ্যে গণধর্ষণ করা হয় সুজেট নামে এক মহিলাকে।

সেই ঘটনায় সরকার পক্ষ থেকে এটা “সাজানো ঘটনা” বলেও মন্তব্য করা হয়েছিল। সেই গণধর্ষণ মামলায় নিম্ন আদালতে বেশকিছু অভিযুক্ত সাজা পেলেও পরবর্তী পর্যায়ে আরো দুই অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও তাদের মামলা এখনো পর্যন্ত আদালতে ঝুলে রয়েছে শাস্তি কবে পাবেন সে বিষয়ে নিয়ে কিন্তু দীর্ঘ প্রশ্নচিহ্ন থেকে যাচ্ছে। পার্কস্ট্রিট গণধর্ষণ মামলার শুনানি সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত এজলাসে।

মামলার আবেদন কারির পক্ষের আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি জানান, “৯ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সালে একটি মারুতি ভ্যান এর মধ্যে সুজেট জর্ডন নামে এক মহিলাকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালতে দীর্ঘ শুনানির পর অভিযুক্তদের সাজা ঘোষণা করে কলকাতা নগর দায়রা আদালত।

কিন্তু এই পার্কস্ট্রিট গণধর্ষণ মামলায় আরো দুই অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ফেরার ছিল। ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আজগারালি সহ দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ২৪ শে নভেম্বর ২০১৬ সালে পাঁচটি গণধর্ষণ মামলায় অতিরিক্ত চার্জশিট দেয় পুলিশ। ১৭ ই ডিসেম্বর ২০১৬ সালে কলকাতা নগর দায়রা আদালতে শুরু হয় মামলার শুনানি। ২০ই এপ্রিল ২০১৮ সালে পার্কস্ট্রিট গণধর্ষণ মামলার দ্বিতীয় পর্বের চার্জ ফ্রেম হয় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।

এই দুই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সংবিধানের ফৌজদারি ধারা ৩৭৬ (২) জি, ১২০ বি, ৫০৬, ৩২৩, ৩৪ নম্বর ধারায় মামলার শুনানি শুরু হয়। ৩ মার্চ ২০১৯ সালে কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল ৩ মাসের মধ্যে মামলার শুনানি শেষ করতে হবে। দীর্ঘ ৫ মাস কেটে গেলেও মামলা শুনানি দূর অস্ত এখন পর্যন্ত সাক্ষী বয়ান সম্পূর্ণ করে উঠতে পারেনি পুলিশ।

মামলার শুনানি শেষ কবে হবে সেইটাও পরিষ্কার নয়। চলতি বছরের ২২ শে ডিসেম্বর কলকাতা নগর দায়রা আদালতের যেয়ে দিলাসে এই পাক স্টিট গণধর্ষণ মামলার শুনানি হচ্ছে সেই বিচারক অবসর নেবেন স্বাভাবিকভাবেই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। নির্যাতিতা আজ আর বেঁচে নেই।