সোয়েতা ভট্টাচার্য, কলকাতা: বড়দিন বা বর্ষবরণ মানেই এখন মানুষের কাছে জনপ্রিয় ডেস্টিনেশন পার্ক স্ট্রিট৷ বড়দিন উপলক্ষে উপচে পরল ভিড় এই এলাকায়৷ আর সব উৎসব প্রেমীদের জন্য পার্ক স্ট্রিট যেন নিজের সাজে সেজে প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় ছিল৷

রাস্তার চারি পাশে আলোর সজ্জা৷ চিড়িয়াখানা, ভিক্টোরিয়া ময়দান ঘুরে সন্ধ্যায় ভিড় উপচেছিল পার্ক স্ট্রিটে। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতকাবার হলেও সেই ভি়ড়ে ছবিটা বদলায়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে শুধুই মানুষের হুল্লোড়।

উৎসব প্রেমীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে পার্ক স্ট্রিট-সহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। চলছে কড়া নজরদারিও। শুধু শহরবাসী নয় বিভিন্ন জেলা বা ভিন রাজ্য থেকেও অনেকে ছুঁটে এসেছেন পার্ক স্ট্রিটের এই ফেস্টিভ মুড কে উপভোগ করতে৷

এই চত্তর গেলেই একদিকে যেখানে নজর কারছে আলোর খেলা এবং রাস্তার সাজগোজ অন্যদিকে নজর কারছে মানুষের সেন্টা টুপি, মুখোশ বা সিং হেয়ারব্যান্ড৷ ঠিক যেন মনে হচ্ছে সকলের ভিতরে কাজের বা ব্যাস্ত জিবনের চাপে মনের এক কোণায় লুকিয়ে থাকা ছোট্ট বাচ্চাটি এই উৎসবের ছোঁয়ায় পার্ক স্ট্রিটের ফেস্টিভ ফ্লেভারের গন্ধে যেন বেরিয়ে এসেছে৷

শহরবাসীর উৎসবের প্রসঙ্গ উঠলেই সেখানে বাদ পরবে না ভুড়ি ভোজের কথা৷ কারন কলকাতাবাসীদের কোনও উৎসবই যেন ভুড়ি ভোজ ছাড়া সম্পুর্ণ রুপ পায়না৷ পার্ক স্ট্রিটের রেস্তোরাঁয় এ দিন ঠাঁই মেলা দুষ্কর। তাইতো এই উৎসবে পার্ক স্ট্রিটের প্রত্যেকটি নামী রেস্তোরাঁর সামনে দেখা গেল মানুষের উপচে পরা ভিড়৷ অনেকেই মনে করেন আগে ক্রিসমাস ইভে এমন ভিড় হত না।

বছর বছর যেন পার্ক স্ট্রিট দর্শনের হুজুগ বাড়ছে মানুষের মধ্যে৷ পার্ক স্ট্রিট যখন রাতভর হুল্লো়ড়ে মাতার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তত ক্ষণে লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছে সেন্ট পলস ক্যাথিড্রালের সামনে। সেখানেই মধ্যরাতের প্রার্থনায় যোগ দিতে হাজির হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পার্ক স্ট্রিটের রেস্তোরাঁয় এ দিন ঠাঁই মেলা দুষ্কর।

তার সঙ্গেই মানুষের মধ্যে সেল্ফির হুজুগও নজর কারল৷ তাদের এই দিনে মন রাখতে পার্ক স্ট্রিট এলাকায় তৈরী করা হয়েছিল সেল্ফি জোনের৷ যেখানে আঠ থেকে আষি সকলেই নিজেদের মুহুর্তগুলি ফ্রেম বন্দি করতে ব্যস্ত দেখা গেল৷ এবছর ক্রিসমাস পার্ক স্ট্রিটে দুই দিক দিয়েই প্রবেশ করতে পারবেন মানুষ। সেখান থেকেই যেতে পারবেন ক্যামাক স্ট্রিটে। বাইরে বের করা হবে মিডিলটন স্ট্রিট হয়ে জওহারলাল নেহরু রোড দিয়ে।