স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: সিএএ-এনআরসি বিরোধিতায় বিক্ষোভে উত্তাল গোটা দেশ। এই পরিস্থিতিতে প্রতিবাদের নতুন পথ দেখিয়েছে দিল্লির শাহিনবাগ। রাজধানীর আন্দোলনকারীদের মতোই কলকাতার পার্ক সার্কাস ময়দানেও অবস্থান বিক্ষোভে বসেছেন কয়েকশো মহিলা। বিভিন্ন বয়সের মহিলারা অবস্থানে অংশ নিয়েছেন। এই খবর ইতিমধ্যেই সংবাদের শিরোনামে এসেছে। শনিবার রাতে সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় আন্দোলনরত এক মহিলার। মৃতার নাম সামিদা খাতুন (৫৭)।

ঘটনার জেরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পার্ক সার্কাস ময়দানে। এবার সামিদা খাতুনের জন্য কলম ধরলেন কবি মন্দাক্রান্তা সেন। সোমাবার নিজের ফেসবুকে দেওয়া মন্দাক্রান্তা লেখেন ‘পার্ক সার্কাসের শহিদ’ নামের একটি কবিতা। ওই কবিতায় মন্দাক্রান্তা লিখেছেন– “আমার মা আমার দেশ/ সামিদা খাতুনে হবে না শেষ/ শহিদের প্রাণ বস্তুত/ রাখছে আমায় প্রস্তুতও/

সামিদা খাতুন আমার মা/ শাসক তোমায় ছাড়ব না/ শীতের রাত্রে সারাক্ষণ/ বসে আছে সব মা ও বোন/ চল সাথী তার পাশে যাবি/ যতক্ষণ না মেটে দাবি/ হায় রে সামিদা হায় শহিদ/ আমরা রয়েছি তোর সহিত/ থাকব আমরা তোর সাথে/ শীত ও গ্রীষ্মে বর্ষাতে/ শহিদের প্রাণ করব শোধ/ আমাদের আছে তীব্র ক্রোধ/ আমাদের আছে তীব্র রাগ/ জাগ রে মানুষ জাগ রে জাগ/ ক্রোধের আগুনে পুড়ছে বুক/ আজ প্রতিবাদ হোক চাবুক/

NO NRC চিৎকারে/ নাড় শাসকের ভিতটা রে/ বিদ্রোহী এই কলজেতে/ দেখবই আজ কে জেতে/ NO NPR বল সবাই/ NO CAA বল সবাই/ আমরা এ দেশে বাঁচতে চাই/ আমার এ দেশ আমার ভারত/ আমাদের দেশে বাঁচতে চাই/ এ আমার হক আমার ভারত/ হকের মাটিতে বাঁচতে চাই।” কবিতাটি পড়ে বোঝাই যাচ্ছে এ মুহূর্তে মন্দাক্রান্তার কবিমন ক্ষতবিক্ষত। সোমবার দুপুরে তিনি পার্ক সার্কাস ময়দানে আন্দোলনরত মহিলাদের সঙ্গে দেখা করতে যান। তাদের অসুবিধের কথা শুনে আসেন।

সিআইডি রোডের বাসিন্দা সামিদা টানা ছাব্বিশ দিন ধরে সিএএ-এনআরসির বিরুদ্ধে পার্ক সার্কাস ময়দানে আন্দোলন করছিলেন। শনিবার রাত বারোটা নাগাদ মঞ্চে থাকা অবস্থাতেই সামিদার বুকে ব্যথা হলে হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে ইসলামিয়া হাসপাতালে ও পরে চিত্তরঞ্জন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিত্তরঞ্জন হাসপাতালেই মৃত্যু হয়েছে তার।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ