সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : ‘অ্যায়সা মওকা ফির কাহাঁ মিলেগা, হমারে জ্যয়সা দিল কাহাঁ মিলেগা, আও তুমকো দিখলাতা হুঁ প্যারিস কি রঙ্গিন শাম’। বহু প্রেমিকের কাছেই প্যারিসে গিয়ে প্রেম নিবেদন একটা স্বপ্নের মতো। কিন্ত ওঁরা বলছেন যে প্যারিস যাওয়ার দরকার নেই। যে কোনও জায়গাতেই পাওয়া যেতে পারে ভালোবাসা।

বহু বছর ধরেই ভারতে ভ্রমণে আসেন ফাবিয়ানা – ফ্রাসোঁয়া। এই বছরেই তার অন্যথা হয়নি। সামনেই ভ্যালেন্টাইনস ডে। এমন সময়ে কি না সেই স্বপ্নের প্রেমের শহর প্যারিস ছেড়েই কলকাতায় হাজির হয়েছেন ফরাসি দম্পতি। সুদূর ফ্রান্স থেকে এসে ইতিমধ্যেই ঘোরা হয়ে গিয়েছে হরিদ্বার, হৃষীকেশ, চণ্ডীগড়, তামিলনাড়ু, কেরালার মতো দর্শনীয় স্থানগুলি। কিন্তু কলকাতায় কখনও আসা হয়ে ওঠেনি। তিলোত্তমায় প্রেমের শহরের দম্পতির আগমন এই প্রথমবার। আর সেই প্রথম সাক্ষাতের পরতে পরতে যেন লেগে রয়েছে একে অপরের প্রতি অবিচ্ছেদ্য ভালোবাসা। যেখানে প্রেম দিবসের মতো কোনও নির্দিষ্ট দিনের স্থান নেই। প্রতিদিন ভালোবাসাকে খুঁজে পান ওঁরা।

আরও পড়ুন : বাংলা বাঁচাও ডাক দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই ফেরিওয়ালা

মল্লিকঘাট ফুল বাজারে সরস্বতী পুজোর ভিড়। তার মাঝেই দেখা মেলে ষাটোর্ধ দম্পতির। ছোট একটি ক্যামেরা নিয়ে ছবি তুলছিলেন ফ্রাসোঁয়া। সঙ্গ দিচ্ছিলেন স্ত্রী ফাবিয়ানা। জানালেন, “আমরা ৪১ বছর একসঙ্গে রয়েছি। কাজেই আমাদের বন্ধন যে কতটা শক্ত তা বুঝতেই পারছেন। আমাদের কাছে ভ্যালেন্টাইন ডে বলে কিছু নেই। এটা হয় না। প্রত্যেক দিনই আমাদের কাছে প্রেম দিবস। প্রেম একটা দিনের জন্যও কমতি হয়নি বলেই না এতগুলো বছর কাটিয়ে দিলাম।” একইসঙ্গে ফাবিয়ানা বলেন, “ওর বয়স ৬৮, আমার ৬০ কিন্তু আমার মনে হয় আমি এখনও সুইট সিক্সটিনে আছি।”

বাতাসে প্রেমের ছোঁয়া, কলকাতায় হাজির ভালোবাসার বার্তা নিয়ে প্রেমের শহরের দুই অধিবাসী। প্রেমিককে প্রপোজ করলেন, কিন্ত গোলাপ নয়। হাতের সামনে ছিল গাঁদা ফুল ,তবে তাই সই। ।

ফ্রাসোঁয়া চুপচাপ ছিলেন। শেষে তিনি বলেন, “ফ্রান্সে এত বড় বাজার নেই। আর এত রঙ এত ফুল। সত্যি বলছি অসাধারন। প্রচুর ছবি তুলছি।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্রান্স শিল্পের দেশ, ভারত কম কোথায়? সেই জন্যই ত আমরা বারবার এই দেশে ছুটে আসি। কিন্তু কলকাতা এই প্রথম।”

সপ্তাহখানেক তিলোত্তমাতেই কাটাবেন ফরাসি দম্পতি। তারপর ফিরে যাবেন । শহর অপেক্ষা করবে ওদের আবারও ফিরে আসার। মহানগর তো এমনই। তার মোহও এমনই। সেই টানেই শহরে বার বার ফিরে আসে অনেকে। ফিরে গিয়ে আবারও ফিরে আসবেন বলে জানালেন ফরাসি দম্পতি। এ শহরের ভালোবাসার মায়ায় বাঁধা পড়েছেন ফ্রাসোঁয়া-ফাবিয়ানা।