স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা সাধন পাণ্ডেকে এবার চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ করলেন দলের আর এক বর্ষীয়ান বিধায়ক পরেশ পাল। বৃহস্পতিবার পরেশ বলেন, “সিবিআই-এর হাত থেকে মেয়েকে বাঁচাতেই সাধান পাণ্ডে বিজেপিকে সন্তুষ্ট করছে। তাঁকে এখনই দল থেকে তাড়াতে হবে। লকডাউন উঠে গেলেই ১৫ হাজার ছেলে নিয়ে রাস্তায় নামবো ওকে তাড়াতে।”

আমফান পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে কলকাতার পুর সভার প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারম্যান ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন রাজ্যের ক্রেতা সুরক্ষামন্ত্রী সাধন পাণ্ডে। তিনি বলেন, “ফিরহাদের উচিত ছিল কলকাতার বিধায়কদের সঙ্গে আলেচনা করা এবং প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টাপাধ্যায়ের মতামত গ্রহণ করা।” সাধনের এই মন্তব্যের পরই তৃণমূলে তোলপাড় শুরু হয়। হাতে অস্ত্র পেয়ে যায় বিরোধীরা।

এরপরই সাধনকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয় দল। স্থানীয় সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে চিঠি দেন। দলে সাধন পাণ্ডে ব্যাকফুটে দেখেই মাঠে নেমে পড়েন পরেশ পাল। উল্লেখ্য, পরেশ-সাধন দ্বন্দ্ব তৃণমূলে সর্বজনবিদিত। এদিন সুযোগ বুঝে ফোঁস করে ওঠেন পরেশ।

পরেশ পাল এদিন বলেন, “বিজেপি সরকারের প্রশাসন অর্থাৎ সিবিআইয়ের হাত থেকে মেয়েকে রক্ষা করতেই গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্বকে সন্তুষ্ট করছেন সাধান পাণ্ডে। উনি এখন উঠে-পড়ে লেগেছেন মেয়েকে কীভাবে বাঁচাবেন তার জন্য।” প্রসঙ্গত, রোজভ্যালি মামলায় একাধিকবার ইডি তলব করেছিল সাধন কন্যা শ্রেয়া পাণ্ডেকে। টলিউডের বহু প্রভাবশালীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত শ্রেয়া সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরাও দিয়েছেন।

পরেশের দাবি, “শুধু মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে বেইজ্জত করাই নয়, সমস্ত কাজের মানুষকেই বেইজ্জত করেছেন সাধান পাণ্ডে। এটা ওঁর চিরদিনের স্বভাব। এর জন্য ওঁর নাম দিয়েছি, চোখে আঙুল দাদা। মন্ত্রী শশী পাঁজা, সাংসদ শান্তনু সেন, ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষকে অপমানিত করেছেন তিনি। বরো চেয়ারম্যান থেকে কাউন্সিলর কারও সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভাল নেই।”

বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক আরও বলেন, “কংগ্রেস করার সময় সাধন পান্ডে বরকতদা, প্রণব মুখোপাধ্যায়, সোমেন মিত্র, এমনকী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের পিছনেও লাগত। আমাদের নেতা অজিত পাঁজাকে তো মেরেই ফেলল ও। এবার তৃণমূল কংগ্রেসকে শেষ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। বিজেপি ও সিপিএমের সঙ্গে ঘর করছে।

দলে থেকে ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আপমানিত করছে। যাকে চার জন ধরে নিয়ে যায়, সেও একটা করাত ধরেছে। সবার রক্ত মাংস খেয়ে নেয়। ও এত বদমাস।” সাধন পাণ্ডেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে পরেশ বললেন, “লকডাউন চলছে বলে পারছি না। লকডাউন উঠলেই ১৫ হাজার লোক নিয়ে রাস্তায় নামব। ওঁকে দল থেকে তাড়াতে হবে।”

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প