তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: সদ্য সমাপ্ত এই বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষায় সব কটি প্রশ্নপত্র ‘ফাঁস’ হয়ে গিয়েছিল৷ সেই খবরে আতঙ্কিত এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। মাধ্যমিকের ‘প্রশ্ন ফাঁসে’র পুনরাবৃত্তি উচ্চ মাধ্যমিকেও হোক চাইছেন না কেউই। এতে পরীক্ষার্থীদের মনোবল ভেঙ্গে পড়ে বলে অনেকে মনে করছেন।

মাধ্যমিকে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে এবারে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকে ওই ঘটনায় পরীক্ষা আয়োজকদের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন। এদিন বাঁকুড়া জেলা স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে স্বপন মুখোপাধ্যায় নামে এক অভিভাবকের দাবি, কোন পরীক্ষার্থী প্রশ্ন ফাঁসে যুক্ত নয়। প্রশ্ন ফাঁস করেন পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই। পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমান রাজ্য সরকার ‘চূড়ান্ত ব্যর্থ’ দাবি করেন৷ তিনি আরও বলেন, এখানে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাহারা দেওয়া হচ্ছে, অন্য জায়গায় পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা প্রশ্ন ফাঁস করছেন।

‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গ্যারো’ প্রসঙ্গ টেনে আর এক অভিভাবক অরবিন্দ ঘোষ বলেন, এই ঘটনা প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই বার বার ঘটেছে। মঙ্গলবার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বুঝতে পারবো উচ্চ মাধ্যমিকেও ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল কিনা। বার প্রশ্ন পত্র ফাঁস হলে ক্ষতি পরীক্ষার্থীদেরই বলে তার দাবি।

জেলা স্কুলের সামনে দাঁড়িয়েই অভিভাবক মঞ্জু পাল বলেন, আমার ছেলে এবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। এর পর যদি প্রশ্ন ফাঁস হয়, তার কারণে নতুন করে পরীক্ষা হয় তবে তাতে সমস্যাই পড়তে হবে। তিনি মনে করেন, পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা একটু সচেতন হলেই এই ধরণের প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

এই বছর বাঁকুড়া জেলায় ৮৩ টি পরীক্ষাকেন্দ্রে ৩৪ হাজার ৭৯২ জন পরীক্ষা দিচ্ছেন। এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ১৭ হাজার ৩৯৭ জন। ছাত্রীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৩৯৫ জন। এই জেলায় গত বছরের তুলনায় এবছর ৯৭২ জন পরীক্ষার্থী কমেছে। ২০১৮ সালে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩৫ হাজার ৭৬৪ জন।

এবছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট এলাকা গুলির সমস্ত জেরক্সের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্র গুলিতে পর্যাপ্ত পুলিশ কর্মী মোতায়েনের পাশাপাশি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। এছাড়াও কোন পরীক্ষার্থী যাতে কোন ধরণের ইলেকট্রনিক্স দ্রব্য নিয়ে হলে প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে চাইছেন পরীক্ষার আয়োজক উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।