কলকাতা: লকডাউনে কয়েক মাস ধরে ঘরবন্দি ছাত্রছাত্রী৷ কোনও কোনও স্কুলে চলছে অনলাইন ক্লাস৷ ফলে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে না গেলেও ফি দিতে হচ্ছে অভিভাবকদের৷ তাও আবার অতিরিক্ত ফি৷ সেই ফি দিতে গিয়েই অভিভাবকরা অর্থনৈতিক সমস্যার মধ্যে পড়ছেন৷ এমনটাই অভিযোগ৷

অভিভাবকদের অভিযোগ, ডেভলপমেন্ট ফি, বিদ্যুৎ ফি, মাসিক বেতন সহ একাধিক ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা এই পরিস্থিতিতে দেওয়া সম্ভব নয়৷ অনেক অভিভাবকই করোনা আবহে লকডাউনে ঘরবন্দি৷ যারা বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করেন,তাদের মধ্যে অনেকেই কম বেতন পেয়েছেন৷

দমদমের সেন্ট স্টিফেন্স স্কুলের অভিভাবকদের দাবি,স্কুল ফি বৃদ্ধি করেছে, এ কথা জানতে পেরে তাঁরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানান। তাদের সেই অনুরোধ তো র্বিবেচনা করা হয়নি,উল্টে স্কুলের গেটে নোটিস ঝুলিয়ে অনলাইনে বর্দ্ধিত ফি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ৷ এমনকি আলোচনায় বসার কথা বলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ বসেনি৷

এরপরই বুধবার দমদমের সেন্ট স্টিফেন্স স্কুলে ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখান৷ এক সময় দমদম সেন্ট্রাল জেলের কাছে তারা যশোর রোড অবরোধ করেন৷ যদিও আন্দোলনের পর স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিচালন কমিটির সঙ্গে আলোচনার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷

এছাড়া স্কুলের ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিধাননগর পুরসভার নারায়ণপুরের সেন্ট জোন্স স্কুলের অভিভাবকরা বিক্ষোভ দেখান৷ স্কুলের গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন অভিভাবকরা৷ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে নারায়ণপুর থানার পুলিশ এলে তাদের ঘিরেও বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে অভিযোগ৷

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন বিধননগরের ডেপুটি মেয়র তথা স্কুল কমিটির চেয়্যারম্যান তাপস চট্টোপাধ্যায়৷ তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেন। তারপরে তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলেন। আলোচনা করেই ফি ঠিক হবে বলে জানান ডেপুটি মেয়র। তাঁর আশ্বাসের পরে বিক্ষোভ তুলে নেন অভিভাবকরা৷

একই অভিযোগ ইন্ডাস ভ্যালি ওয়ার্ল্ড স্কুলের অভিভাবকদের একাংশের৷ তাদের মূল দাবিগুলো হলো- যতদিন না সব কিছু স্বাভাবিক হচ্ছে ততদিন শুধুমাত্র টিউশন ফি নেওয়া হউক৷ বাকি ফি যেমন রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ, বাস ফি সহ অন্যান্য ফি এই মূহুর্তে দেওয়া সম্ভব নয়৷ স্কুল কে বহুবার মেইল করেও তার কোনও উত্তর মেলেনি৷ ফলে আগামী দিনে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার কথা ভাবছেন৷ যদিও এই বিষয় স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি৷

শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্ট্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছেন, লকডাউন পর্বে নেওয়া যাবে না বর্ধিত ফি, বেসরকারি স্কুলকে কড়া চিঠি স্কুল শিক্ষা সচিবের৷ তারও আগে সরকারের তরফে রাজ্যের বেসরকারি স্কুলগুলিকে সতর্ক করা হয়৷ বেসরকারি স্কুলের বহু অভিভাবক ফি বাড়ার অভিযোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী কাছে৷ আরও অভিযোগ এসেছে বেশ কিছু স্কুলে অনলাইনে পঠনপাঠনে কিছু পড়ুয়াকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না৷ স্কুলের মাইনে জমা দিতে না পারার জন্য অনলাইনে শিক্ষায় যোগ দিতে না দেওয়ার অভিযোগ৷

এরপরই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্ট্যোপাধ্যায় নিজের ফেসবুকে পেইজে লিখেছিলেন, প্রাইভেট বিদ্যালয় গুলিকে ইতিমধ্যেই দ্বিতীয়বার জানানো হলো যে তারা ফি বৃদ্ধি এই মুহুর্তে করতে পারবে না। স্কুলের মাহিনা বাবদ টাকা না দিলে অনলাইনে শিক্ষায় যোগ দিতে না পারার সিদ্ধান্ত সঠিক নয় সবাইকেই সেই সুযোগ দিতে হবে। এ ব্যাপারে সরকারের মনোভাব যথেষ্ট কঠোর।

আশা করি প্রাইভেট স্কুল গুলি সরকারের এই মনোভাব অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন এবংঅভিভাবকদের উপর মানসিক চাপ তৈরি করা থেকে বিরত থাকবেন।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প