স্টাফ রিপোর্টার, দিঘা: বাবা মা সমুদ্রের ঢেউয়ে আনন্দ করতে ব্যস্ত৷ অন্যদিকে বদ্ধ গাড়ির মধ্যে পাঁচ বছরের শিশু তখন অক্সিজেনের অভাবে নেতিয়ে পড়েছে৷ এরকম আতংকের দৃশ্যের সাক্ষী হয়ে রইল দিঘা৷

বুধবার দিঘায় অল্পের জন্য পুলিশের সহায়তায় প্রাণে বাঁচল এক শিশু। দিঘায় বেড়াতে এসে সমুদ্রে স্নান করতে যাওয়া পর্যটকরা হঠাৎ খেয়াল করেন একটি গাড়ির মধ্যে রাখা বছর পাঁচেকের একটি শিশু ছটফট করতে করতে নেতিয়ে পড়েছে৷ একেবারে মৃতপ্রায় অবস্থা। তাঁকে বাঁচাতে চেষ্টা করলেও কোনও উপায় ছিল না। কারণ গাড়ির দরজা জানালা বন্ধ করা ছিল।

 

অক্সিজেনের অভাবে গাড়ির মধ্যে থাকা শিশুটির তখন কাহিল অবস্থা। চোখের সামনে শিশুটিকে ক্রমেই নেতিয়ে পড়তে দেখে আতংকিত হয়ে পড়েন পর্যটকরা। ঘটনাস্থলে তখন পর্যটকদের ভিড় জমে গিয়েছে। কোনও রকমে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। দিঘা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গাড়ির কাঁচ ভেঙে মৃতপ্রায় শিশুটিকে উদ্ধার করে৷

দীর্ঘ সময় জল না পেয়ে আর অক্সিজেনের অভাবে শিশুটির তখন প্রাণান্তকর অবস্থা। এমনই উত্তেজক পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলে উদয় হন শিশুটির বাবা। জানা গেল, তিনি ও তাঁর স্ত্রী শিশুটিকে গাড়িতে রেখে সমুদ্রে স্নান করতে গিয়েছিলেন। ব্যাস, উপস্থিত জনতা তখন শিশুর বাবাকে ধরে বেধড়ক মারধর শুরু করে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ কোনও ক্রমে শিশুটি ও তাঁর বাবাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, কীর্তিমান বাবা হলেন সেলিম শেখ, স্ত্রী নাজমা বিবি। বাড়ি সোনারপুর থানার কামারগাছি এলাকায়।

কিভাবে শিশুকে এমন নির্মম ভাবে গাড়িতে আটকে রেখে বাবা মা সমুদ্র স্নানে মেতে উঠলেন তা নিয়েই হতবাক সকলে। শিশুটির বাবাকে পুলিশ আটক করে রেখেছে বলে জানা গিয়েছে।