স্টাফ রিপোর্টার, পুরুলিয়া: শ্রমিক স্পেশ্যালে সন্তানের মৃত্যুর বিচারের দাবিতে স্থানীয় সাংসদ জ্যোর্তিময় সিং মাহাতোর বাড়ির সামনে ধরনায় বসলেন মৃত শিশুর বাবা-মা ও পরিজনরা। কেন সাংসদের তরফে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হল না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। ঘটনার জেরে পুরুলিয়া সদরের রাঁচি রোডে সাংসদের বাড়ির এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান জেলা বিজেপির সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী। সেখানে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। সাংসদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ লঘু করতে তিনি বলেন, “সাংসদ হয়তো যাননি। আপনারা পারতেন চিঠির মাধ্যমে তাঁকে গোটা বিষয়টা জানাতে।” এ দিনের ঘটনার পিছনে তৃণমূলের মদত রয়েছে বলেই দাবি বিজেপি নেতা বিদ্যাসাগর চক্রবর্তীর।

তার এই মন্তব্যেই ক্ষোভ আরও বাড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক বিবেক রাংদা মৃত শিশুর বাবা দিলদার আনসারির সঙ্গে সাক্ষাত করান সাংসদের। এরপরই নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি।

জানা গিয়েছে, ৮ জুন পুরুলিয়া ফেরার জন্য স্ত্রী ও ১৮ দিনের সন্তানকে নিয়ে কেরল থেকে শ্রমিক স্পেশ্যাল ট্রেনে উঠেছিলেন দিলদার আনসারি। মাঝপথেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল তাঁর সন্তান। অভিযোগ, রেল কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার সাহায্যের আরজি জানিয়েও কোনও সুফল পাননি ওই শিশুর বাবা-মা। কার্যত বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় সদ্যজাতটির।

কিন্তু ঘটনার পর দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও সহযোগিতা তো দূর-অস্ত, মৃতের পরিজনদের সঙ্গে দেখাও করেননি পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোর্তিময় সিং মাহাতো। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে মৃত শিশুটির পরিবার।

এ প্রসঙ্গে দিলদার আনসারি বলেন, “আমরা ঘটনার বিচার চাই। সাংসদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি বলেছেন রেলকে লিখিতভাবে এবিষয়ে অভিযোগ করতে হবে।”

আর ওই বিজেপি সাংসদের সাফাই, “প্রতিনিয়ত অনেক ধরনের ঘটনাই ঘটে। সকলের বাড়ি যাওয়া হয়ে ওঠে না সময়ের অভাবে।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ