স্টাফ রিপোর্টার,গাইঘাটা: বেশ কিছু দুস্কৃতীর হাতে আক্রান্ত হলেন প্রকাশ মন্ডল নামে এক পার্শ্ব শিক্ষক৷ ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর চব্বিশ পরগনার গাইঘাটা থানার আংরাইল সীমান্ত এলাকায়৷ রাতে শৌচাগারে যাওয়ার সময় বেশ কিছু যুবকের হাতে প্রহৃত হন তিনি৷ এমনকি তাঁকে খুন করারও চেষ্টা করে দুস্কৃতীরা বলে অভিযোগ৷ এই দুস্কৃতীরা বাংলাদেশী বলে অভিযোগ ওই শিক্ষক ও তাঁর পরিবারের৷ দুস্কৃতীরা বাংলাদেশে গোরু পাচার ও ধুর পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি৷

শুক্রবার রাতে প্রকাশ মন্ডল বাইরে ওঠেন৷ বাড়ির বাইরে শৌচালয় হওয়ায় তিনি উঠোনে আসতেই বেশ কিছু যুবককে দেখতে পান৷ প্রকাশকে দেখেই তারা মারধর করা শুরু করে৷ তাদের আশঙ্কা ছিল প্রকাশ তাদের দেখে ফেলায় বিপদ হতে পারে৷ প্রাকাশ মন্ডলকে গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে মেরে ফেলারও চেষ্টা করে তারা৷ এদিকে ছেলের ঘরে ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখে প্রকাশের বাবা বাইরে আসেন৷ তাঁকে দেখেই দুস্কৃতীরা প্রকাশকে ফেলে পালিয়ে যায়৷ বাড়ির এক কোনে অচৈতন্য অবস্থায় প্রকাশকে খুঁজে পান পরিবারের লোকজন৷ প্রতিবেশি রাও আসেন৷ প্রকাশকে উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় বনগাঁ হাসপাতালে৷ চিকৎসার পর সুস্থ হয়ে প্রকাশ বাড়ি ফিরলেও আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁর৷

প্রাকাশ ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ রোজ রাতে ওই এলাকা থেকে গরু ও ধুর পাচার চলে৷ বছর তিনেক আগেও ওই এলাকাতেই এক আরপিএফ কর্মীকে পাচারের কাজে বাধা দেওয়ায় মেরে ফেলেছিল দুস্কৃতীরা৷ সেই ভয়েই এতদিন মুখ খোলেননি প্রকাশ তাঁর পরিবার৷ প্রকাশের আরও অভিযোগ গাইঘাটা থানায় লিখিত অভিযোগ করা সত্বেও সাতদিনে একবারও পুলিশের খোঁজ পাওয়া যায়নি ওই এলাকায়৷ প্রকাশের বক্তব্য “প্রকাশ্যে যদি বাংলাদেশী দুস্কৃতিরা এসে আমাদের মতো সাধারন মানুষের ওপর আক্রমণ করে তাহলে যে কোনও সময় দেশের বড় ক্ষতি করে দিতে পারে”৷ এই ঘটনায় পুলিশের পাশাপাশি বিএসএফের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে৷ ঘটনার পর নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন প্রকাশ ও তাঁর পরিবার৷ আতঙ্কিত এলাকার মানুষ৷