কলকাতা: ঘোষণাটা হয়ে গিয়েছিল ১৭ ডিসেম্বর। আর ২৫ ডিসেম্বরের ঠিক পরের সন্ধ্যায় মোহনবাগানের হয়ে খেলতে শহরে পা রাখলেন পাপা বাবাকর দিওয়ারা। সালভা চামোরোর পরিবর্ত হিসেবে আই লিগের বাকি সময়টা কিবু ভিকুনার দলের আপফ্রন্টের ব্যাটন থাকবে সেনেগালের এই স্ট্রাইকারের হাতেই।

স্প্যানিশ স্ট্রাইকার সালভা চামোরোর পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্ট ছিল একজন বক্স স্ট্রাইকারের খোঁজে। সেই উদ্দেশ্যেই লা-লিগায় খেলা সেনেগাল স্ট্রাইকারের ঈর্ষণীয় প্রোফাইল দেখে তাঁকে দলে নিতে দেরি করেননি বাগান কর্তারা। যদিও সবটাই হয়েছে হেড কোচ কিবু ভিকুনার সঙ্গে আলোচনা করেই। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দমদম বিমানবন্দরে পা রাখেন আফ্রিকার এই কৃষ্ণাঙ্গ স্ট্রাইকার। ভাষা সমস্যার জন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা না বলতে পারলেও পাপাকে ঘিরে বিমানবন্দরে ছিল সবুজ-মেরুন অনুরাগীদের বিপুল উৎসাহ।

সান্টার পাঠানো গিফট হয়ে তিনি বাগানে এলেন কীনা, সেটা সময় বলবে। কিন্তু বাগান সমর্থকরা আশাবাদী নয়া স্ট্রাইকারের হাত ধরেই দলের আপফ্রন্টের সমস্যা মিটবে। বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই উত্তরীয় গলায় পরিয়ে পাপাকে স্বাগত জানান সমর্থকেরা। নয়া বিদেশিকে নিয়ে তাদের উৎসাহের কোনও খামতি ছিল না। মুখে প্রকাশ না করলেও সমর্থকদের অভ্যর্থনায় যে তিনি আপ্লুত, পাপার অভিব্যক্তি বুঝিয়ে দিচ্ছিল তা। নতুন বছরের শুরু থেকেই সেনেগাল স্ট্রাইকারকে মাঠে নামাতে মরিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে সমস্ত দিক বিচার বিবেচনা করেই নেওয়া হবে সিদ্ধান্ত। আর সমর্থকেরাও মুখিয়ে পাপার পায়ের জাদু দেখতে।

৬ ফুট উচ্চতার এই সেনেগাল স্ট্রাইকারের সিনিয়র কেরিয়ার কিন্তু বেশ চমকপ্রদ। পর্তুগালের মরটিমো ২০১২ বাবাকর যোগ দেন লা-লিগার ক্লাব সেভিয়াতে। সেখান থেকে পরের মরশুমে লেভান্তে এবং তার পরের মরশুমে গেটাফের হয়ে খেলেন তিনি। প্রথম দফায় মরটিমোর হয়ে ১০৩ ম্যাচে ৩৭ গোল করা বাবাকর ২০১৫ পুনরায় যোগ দেন পর্তুগালে তাঁর পুরনো ক্লাবে।

সেখান থেকে ২০১৭ অস্ট্রেলিয়ার প্রথম সারির ক্লাব অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের জার্সি গায়ে চাপান তিনি। দু’টি মরশুমে অস্ট্রেলিয়ার ক্লাবের হয়ে ২৩ ম্যাচে ৭ গোল করা সেনেগাল স্ট্রাইকার সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে এখন কেমন পারফর্ম করেন, সেদিকেই তাকিয়ে মোহন জনতা।