কলকাতা২৪x৭: আর্জেন্তিনার কোর্ডবা প্রদেশের ল্যাগুনা লার্কাতে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে ১৫ নভেম্বর ১৯৯৩ জন্ম হয়েছিল পাওলো ব্রুনো এক্সইকুয়েল ডিবালার৷ জন্মের সময় বাবা অ্যাডল্ফো ডিবালা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ‘ছেলে জন্ম নিয়েছে একটা লক্ষ্য নিয়ে৷ দেশের হয়ে ফুটবল খেলার জন্য৷’
মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বাবার ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি করে নিজেকে পেশাদার ফুটবলার হিসেবে মেলে ধরেন ডিবালা৷ নিজের শহরের ক্লাব ইস্টিটুটো আটলেটিকো সেন্ট্রাল কর্ডোবার হয়ে প্রিমেরা বি নেসিওন্যালে খেলার মাধ্যমে একজন পেশাদার ফুটবলার হিসেবে অভিষিক্ত হন। প্রিমেরা বি নেসিওনাল লিগটি আর্জেন্তিনার দ্বিতীয় ডিভিশন লিগ৷ মা এলিসিয়া ডিবালাও চাইতেন বড় হয়ে নিজের স্বপ্নকে সত্যি করতে সময় দিক ছেলে৷ বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পেয়ে স্বপ্ন সত্যি হল পাওলো ডিবালার৷

মাঠে নিজের গতি ও অনবদ্য ফুটবলের জন্য ‘লা জোয়া’ ডাকনামে পরিচিত ডিবালা৷ স্প্যানিশ ভাষার এই ডাকনামের বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায় ‘রত্ন’৷ আর্জেন্তিনার এই ২৪ বছরের ফরোয়ার্ডের পায়ের জাদু কেড়ে নিয়েছে আর্জেন্তিনায় মেসির উত্তরসূরির তকমা৷ আগামী মরশুমে জুভেন্তাসের এই ফরোয়ার্ডকে দল চাইছে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ৷

অ্যাটলেটিকো সেন্ট্রাল কর্ডোবার হয়ে ৪০টি ম্যাচ খেলে ১৭টি গোল করেছেন ডিবালা। কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে প্রথম গোল করে প্রাক্তন আর্জেন্তাইন স্ট্রাইকার মারিও কেম্পেসের রেকর্ড ভাঙেন তিনি। রাশিয়া বিশ্বকাপে আধুনিক ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসির পাশে খেলতে দেখা যাবে ডিবালাকে৷

২০১১-১২ মরশুমে আর্জেন্তিনার ক্লাব আটলেটিকো সেন্ট্রাল কর্ডোবার হয়ে আর্জেন্তিনার দ্বিতীয় ডিভিশন লিগ প্রিমেরা বি নেসিওন্যালের হয়ে ৪০টি ম্যাচে ১৭টি গোল রয়ছেন আর্জেন্তাইন ফরোয়ার্ডের৷ ২৯ নভেম্বর, ২০১২ ইতালির সিরি-এ ক্লাব পালরমোরাতে যোগ দেন ডিবালা৷ ২০১২ থেকে ২০১৫ তিন মরশুমে ক্লাবটির হয়ে ৯৩টি ম্যাচ খেলে ২১টি গোল করেন আর্জেন্তাইন স্ট্রাইকার৷

৪ জুন, ২০১৫৷ ৩২ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে ইতালির অন্যতম বড় ক্লাব জুভেন্তাসে যোগ দেন ডিবালা৷ ২০১৫ থেকে ২০১৮ এই তিন মরশুমে জুভেন্তাসের হয়ে ১৪০বার মাঠে নেমে ৬৮ বার বল বিপক্ষের জালে জড়িয়ে দিয়েছেন এই উদিয়মান তারকা ফরোযার্ড৷ গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে বার্সেলোনার বিরুদ্ধে জয়ের ম্যাচেও গোল করেন ডিবালা৷

পোল্যান্ডে থেকে আর্জেন্তিনায় এসেছিলেন ডিবালার পূর্বসূরিরা৷ আবার মায়ের দিক থেকে ইতালির সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে তাঁর৷ ২০১২ সালে ইতালির নাগরিকত্বও পান এই প্রতিভাবান ফুটবলার৷ পরিবারের সুত্র ধরে আর্জেন্তিনা ছাড়াও পোল্যান্ড এবং ইতালির হয়েও খেলতে পারতেন ডিবালা৷ কিন্তু আর্জেন্তিনার জার্সি গায়ে ফুটবল খেলার স্বপ্ন দেখতেন লা জোয়া৷ ২০১২ সালেই আর্জেন্তিনার অনূর্ধ্ব-১৭ দলে জায়গা পান পাওলো৷

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ আর্জেন্তিনার জাতীয় দলের জার্সি পরার সুযোগ পান ২৪ বছর বয়সি ফরোয়ার্ড৷ ওই বছরই ১৩ অক্টোবর উরুগুয়ের বিরুদ্ধে আর্জেন্তিনার হয়ে মাঠে নামেন ডিবালা৷ ২০১৫ থেকে ২০১৭ এই তিন মরশুমে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মোট ১২ বার মাঠে নামলেও একটিও গোল পাননি৷ ক্লাব ফুটবলে ভালো পারফরমেন্সের জন্য রাশিয়া বিশ্বকাপে ডিবালার প্রতি আস্থা দেখিয়েছেন আর্জেন্তাইন কোচ৷