পাঁশকুড়া: ফুলের রাজ্য পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া। এলাকার বিঘার পর বিঘা জমিতে নানারকম ফুল চাষ হয়। বছরভর ফুল চাষ করেই জীবিকা নির্বাহ করে এলাকার বহু পরিবার। তবে শীতকাল এলেই ফুলেচ চাষ আরও বেড়ে যায়। এবারও তার অন্যথা হয়নি। তবে এবার চিন্তা বাড়িয়েছে বাজারে ফুলের দাম। বছরভর হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ফুল ফোটান চাষিরা। এবার সেই ফুল বাজারে এনে বিক্রি করতে গিয়েই সমস্যায় পড়ছেন চাষিরা। পর্যাপ্ত পরিমাণে লাভ না হওয়ায় অনেকে মহাজনের দেনা মেটানো নিয়েও সন্দিহান।

প্রতি বছর বিশেষত শীত কালে রাজ্যের অন্য এলাকা থেকে পাঁশকুড়ায় ভিড় জমান অনেকে। শুধুমাত্র বিস্তৃত ফুলের জমি দেখতেই ছুটে যান অনেকে। খিরাই থেকে জানাবাড়-সহ পাঁশকুড়ার সব ফুলবাগিচাতেই ভিড় জমে যায়। ভিড় সামলাতে হিমশিম দশা হয় এলাকার কৃষকদের। ফুলবাগানে নেমেই চলে দেদার সেলফি। রং-বেরঙের ফুলের ছবি তুলে মুহূর্তে সোশাল মিডিয়ায় হয়ে যায় আপলোড। সঙ্গে সঙ্গেই লাইক-কমেন্টের ছড়াছড়ি।

এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল। গত কয়েকবছর ধরে ফুলের বাজারে ব্যবসায়ী কমে যাওয়া ও ফুলের ভালো দাম না পাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন পাঁশকুড়ার ফুলচাষিরা। ফুল চাষ করে মূলত হাওড়ার মল্লিকবাজারের ফুল বাজারেই নিয়ে যান চাষিরা। কিন্তু এখন সেই বাজারে ফুল ব্যবসায়ীর সংখ্যা কমে গিয়েছে। ফলে পাঁশকুড়া থেকে বিপুল সংখ্যায় যাওয়া ফুলচাষিদের ফুল কেনার লোক কমেছে। পাঁশকুড়ায় বংশপরম্পরায় ফুলের চাষ করে চলেছে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্ম। ফলে এলাকায় আগের চেয়ে ফুল চাষে আগ্রহ তো কমেইনি উলটে বেড়েছে। আর তাই ফুলচাষির সংখ্যাও দিনের পর দিন বাড়ছে। কিন্তু পাঁশকুপড়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষ হওয়া ফুলের ভালো বাজার নেই। মল্লিকবাজারে গিয়ে অনেক সময়ই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ফুলচাষিদের।

ফুলচাষিদের কয়েকজন জানালেন, হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে বাজারে ফুল নিয়ে গিয়ে ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না চাষিরা। কিন্তু সময়ে ফুল না বিক্রি হলে তা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বাধ্য হয়েই কম দামেও ফুল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক চাষি।