সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : তিনি বাঁশির নয়া রূপকার। আবার তিনিই লড়ছেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে। ব্রিটিশ পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে বরিশাল থেকে কলকাতা। তিনি পান্নালাল ঘোষ। একাধারে বিখ্যাত বাঁশি বাদক, অন্যদিকে স্বাধীনতা সংগ্রামী।

বরিশালের এক নদীতে ভেসে যাওয়া ছোট একটি বাঁশি তুলে নিয়ে যে ছেলেটি মোক্ষ করেছিলেন, যাঁর হাতে সেই বাঁশিটি দেখে এক সাধু বলেছিলেন, এই ছেলে এক দিন মস্ত বাঁশিশিল্পী হবে, কলকাতায় পালিয়ে আসার পর সেই ছেলে খিদিরপুরের বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে এনে বাঁশি তৈরি করতে শুরু করেন। আগেকার বাঁশিতে দু’একটি স্বর বাজানো ছিল মুশকিল। সপ্তম ছিদ্রটি উদ্ভাবন করে পান্নালাল সেই সমস্যার সমাধান করে ফেলেন।

বাঁশি আকারে ছিল ছোট ছিল। স্থান ছিল প্রধানত পল্লীসংগীতে। পান্নালাল সেটিকে দিলেন নতুন রূপ দেন। বানান পৃথিবীর প্রথম ৩২ ইঞ্চি লম্বা, সাতটি ফুটোওয়ালা বাঁশের বাঁশি। রাগসঙ্গীতে বাঁশির সমূহ সম্ভাবনার পথ তিনিই উন্মুক্ত করেন। রাগসঙ্গীতের গভীর আবেগ প্রকাশে তাঁর অসাধারণ ক্ষমতা ছিল। মানুষের যেকোন কণ্ঠস্বরকে তিনি অনায়াসে বাঁশিতে রূপায়িত করতে পারতেন।

বরিশাল শহরে এক সঙ্গীতশিল্পী পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতামহ হরকুমার ঘোষ ছিলেন প্রখ্যাত ধ্রুপদশিল্পী এবং পিতা অক্ষয়কুমার ঘোষ ছিলেন প্রসিদ্ধ সেতারবাদক। তাই পরিবারের সাঙ্গীতিক পরিবেশ পান্নালালকে সঙ্গীতের প্রতি বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে। পান্নালালের সঙ্গীত শিক্ষার শুরু বাবা অক্ষয়কুমারের থেকে। চৌদ্দ বছর বয়সে পান্নালাল বাঁশি শিখতে শুরু করেন। স্বীয় অধ্যবসায় বলে সাফল্য অর্জন করেন। পান্নালাল ঘোষ বাঁশিকে করে তুলতে পেরেছিলেন ‘কনসার্ট’ যন্ত্র বা সেতার সরোদ সানাই সারেঙ্গির সমান, অর্থাৎ ধ্রুপদী সংগীতের আসরে যা একক গরিমায় বাজতে পারে মূল যন্ত্র হিসেবে।

তাঁর প্রথম সংগীতগুরু খুশ মহম্মদ খানের কাছে নাড়া বেঁধে রাগসংগীতে তালিম নিয়েছিলেন এবং সেই গুরুর মৃত্যুর পর তালিম নিয়েছিলেন আচার্য গিরিজাশঙ্কর চক্রবর্তীর কাছে । সংগীতাচার্য আলাউদ্দিন খান সাহেবের কাছেও পান্নালাল ঘোষ দীর্ঘ তালিম নেন এবং তাঁরই উৎসাহে সৃষ্টি করেন নানান রাগ, যেমন— নূপুরধ্বনি, চন্দ্রমৌলি, দীপাবলি, কুমারী।

পঞ্চাশের দশকে আকাশবাণী কলকাতার রম্যগীতি বিভাগটি হয়ে ওঠে অসামান্য সুরসমৃদ্ধ বেশ কিছু আধুনিক বাংলা গানের আঁতুড়ঘর। ‘গুনগুনগুন অলি গায়’, ‘ছন্দে ছন্দে’, ‘নদী বয়ে যায় রে’ আর ‘কে ভুলালে বারে বারে’ সেগুলির অন্যতম।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.