বেজিং: গোটা বিশ্বে এখন শিরোনামে একটাই খবর। ভাইরাস, মৃত্যু, লকডাউন। এক মারণ রোগের সঙ্গে একসঙ্গে লড়াই করছে গোটা পৃথিবী। কিন্তু কোথা থেকে এলো এই ভাইরাস। একের পর এক গবেষণায় উঠে আসছে নানা তথ্য। তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন প্রশ্ন। এমনকি চিনা ল্যাবরেটরিতে এই ভাইরাস জৈব অস্ত্র হিসেবে তৈরি করা হচ্ছিল এমন অনুমান প্রকাশ করেছেন অনেকে।

বিগত প্রায় ৪-৫ মাস ধরে এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই চলছে। বর্তমানে গোটা বিশ্বে ২১,০০০ বেরিয়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। এবার সামনে এলো আরও এক নতুন তথ্য। প্যাঙ্গোলিন থেকে ছড়িয়ে থাকতে পারে এই ভাইরাস। চিনে বিক্রি করা হয় এই প্যাঙ্গোলিন। একে খাবার হিসেবেও খাওয়া হয় আবার ওষুধ তৈরির কাজে লাগে। এই প্রাণীর শরীরে করোনা জাতীয় একটি ভাইরাস থাকতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

এর আগে বাদুড়কে করোনা ভাইরাসের বাহক হিসেবে সন্দেহ করা হয়েছিল। অনেক গবেষক মনে করেন, বাদুড় ও অন্য কোন প্রাণীর মাধ্যমেই মানুষের শরীরে ঢুকেছে এই ভাইরাস।

‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এই সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্র। সেখানে বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে পশু পাখির বাজারে বিক্রি করা বন্ধ করতে হবে, তবেই ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা কমবে।

আগামীদিনে চিন ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় প্যাঙ্গোলিন এর উপর বিশেষ নজরদারি চালাবে বিজ্ঞানীরা। প্যাঙ্গোলিন থেকে কিভাবে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে বা আগামীদিনে তার থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হবে। এরা করোনার মত একটি ভাইরাস বহন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্ব থেকে প্যাঙ্গোলিন বিলুপ্তির দিকে চলে যেতে পারে। এই প্রাণীটি অনেক বেশি মাত্রায় চোরাই হয়। প্যাঙ্গোলিনের আঁশ থেকে ওষুধ তৈরি করে চিনারা। প্যাঙ্গোলিনের মাংস খায় সে দেশের মানুষ।

কখনও দাবি উঠেছে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে সাপ থেকে, আবার কেউ বলেছেন বাদুড় থেকে। ইসরায়েলের গোয়েন্দা বিভাগের প্রাক্তন কর্মকর্তা দাবি সিমের গোপন অস্ত্র গবেষণাগার থেকেই করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। যদিও চিনের তরফে এই জীবাণু অস্ত্র গবেষণার কথা অস্বীকার করা হয়েছে।

চিনের বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে মামলাও হয়েছে। যদিও চিন বারবার দাবি করেছে যে এই ভাইরাস তৈরি করা বা ছড়ানোর পিছনে তাদের কোনো হাত নেই।