মুম্বই: শেষবার জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমেছেন গত সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজে। তার পরই পিঠের চোটের জন্য জাতীয় দল থেকে ছিটকে যান হার্দিক পান্ডিয়া। গত অক্টোবরে পিঠে চোটের জায়গায় অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন এখন। এই অবস্থায় জাতীয় দলে কাম ব্যাকের জন্য আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফরকেই পাখির চোখ করছেন তারকা অল-রাউন্ডার।

গত বছর এশিয়া কাপের সময় পিঠে সমস্যা অনুভব করেন হার্দিক। যদিও এই চোট তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছিলেন। সাময়িক বিশ্রামের পর চোট সরিয়ে মাঠে ফেরেন তিনি। জাতীয় নির্বাচকরা পান্ডিয়ার ওয়ার্ক লোডের দিকে সেই থেকেই সজাগ দৃষ্টি রেখে চলেছেন। যে কারণে বিশ্বকাপের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে বিশ্রাম দেওয়া হয় হার্দিককে। শেষমেশ প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজ চলাকালীন পিঠে পুনরায় যন্ত্রণা অনুভব করলে চোটের জায়গায় অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন পান্ডিয়া।

হার্দিক নিজেই জানালেন টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে আলোচনার পরই তিনি তড়িঘড়ি চোটের জায়গায় অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আসন্ন নিউজিল্যান্ড সফরের মাঝপথেই তাঁর মাঠে ফেরার কথা। নতুন বছরের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে সীমিত ওভারের সিরিজ খেলবে ভারত। তার পরেই নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে টিম ইন্ডিয়া। কিউয়ি সফরে ৫টি টি-২০, ৩টি ওয়ান ডে ও ২টি টেস্ট খেলবে বিরাট কোহলিরা।

পান্ডিয়া জানান, ‘পরিকল্পনা মতোই তড়িঘড়ি চোটের জায়গায় অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নিই। যদি আমার মাঠে ফিরতে চার মাস সময় লাগে, তবে নিউজিল্যান্ড সফরের মাঝপথেই পুনরায় মাঠে নামতে পারব। নিউজিল্যান্ড সফরের পর আইপিএল খেলে টি-২০ বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে তৈরি করার সুযোগ পাব। আসলে টি-২০ বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই অক্টোবরে অস্ত্রোপচার করাই। না হলে অন্তত আরও এক মাস দেরিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত।’

পান্ডিয়া আরও বলেন যে, অস্ত্রোপচার এড়াতে সম্ভাব্য সব রকমের প্রচেষ্টাই তিনি করেছিলেন। তবে কোনও কিছুতেই সমস্যা চিরতরে নির্মূল হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়নি। তাঁর কথায়, ‘আমি সব রকমভাবে চেষ্টা করেছিলাম যাতে অস্ত্রোপচার ছাড়াই সম্পূর্ণ ফিট হওয়া যায়। বুঝতে পারছিলাম যে পিঠের এই চোটের জন্য আমি নিজের একশো শতাংশ দিতে পারছিলাম না। এটা শুধু নিজের সঙ্গেই নয়, দলের সঙ্গেও একপ্রকার প্রতারণা। তাই চোট ছাড়িয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ ফিট করে তোলাই আমার লক্ষ্য ছিল।’