ফাইল ছবি

কলকাতা: পঞ্চসায়র কাণ্ডে নয়া মোড়। ধর্ষণে অভিযুক্ত ছিল এক নাবালকও। ঘটনার তদন্তে নেমে এই তথ্যই পেয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবারই গ্রেফতার করা হয় ওই নাবালককে।

পঞ্চসায়রের বৃদ্ধাশ্রমের নির্যাতিতা মহিলা গণধর্ষণের অভিযোগ আনার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। অভিযুক্তদের খোঁজে শহরজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়। এই ধর্ষণকাণ্ডে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছিল অভিযুক্ত ট্যাক্সিচালক উত্তম রামকে। এই কাণ্ডে দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে ধোঁয়াশা ছিল পুলিশের। কিন্তু ধৃত ট্যাক্সিচালককে জেরা করতেই নাবালকের কথা জানতে পারে পুলিশ। মঙ্গলবার দ্বিতীয় অভিযুক্ত হিসেবে ওই নাবালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, প্রথমে ধর্ষণ করে ওই নাবালকই জেরায় অপরাধ স্বীকার করেছে ধৃত। বৃহস্পতিবার জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সামনে পেশ করা হবে তাকে।

২০১২ সালে নির্ভয়া কাণ্ডের জেরে ফৌজদারি অপরাধে নাবালক-সাবালক গণ্য করার ক্ষেত্রে আইন পরিবর্তিত হয়েছে। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ১৮-র পরিবর্তে ১৬ বছর বয়স হলেই তাকে সাবালক হিসেবে গণ্য করা যাবে। কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের বয়স ১৭ বছর ৬ মাস। তাই বৃহস্পতিবার জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে পেশ করে ধৃতকে সাবালক হিসেবে গণ্য করার আর্জি জানাবে পুলিশ। তা ছাড়া ট্যাক্সিচালক উত্তম রামও এই ধৃত একসঙ্গেই ধর্ষণ করেছিল বলে পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে।

ট্যাক্সিচালক উত্তম রামকে গ্রেফতার করার পর দ্বিতীয় ব্যক্তির অস্তিত্ব নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল তদন্তকারী পুলিশ অফিসারদের কাছে। ধৃত উত্তম অবশ্য বার বার দাবি করেছিল, ওই রাতে সে একাই ছিল। পুলিশও তেমন কোনও অকাট্য প্রমাণ জোগাড় করতে পারছিল না। অবশেষে জট খোলে মঙ্গলবার। ওই দিন দ্বিতীয় বার ঘটনার পুনর্নির্মাণের পরেই জেরায় বেরিয়ে আসে দ্বিতীয় ব্যক্তির কথা। উত্তমকে গ্রেফতারের পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছিল ১৭ বছর বয়সি এই দ্বিতীয় অভিযুক্ত। তার বাড়ি নরেন্দ্রপুর থানার অধীন কাঠিপোতা এলাকায়। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। মঙ্গলবারই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত নাবালক পেশায় ভ্যানচালক। সে উত্তমের পূর্বপরিচিত বলেই জানতে পেরেছে পুলিশ। মাঝেমধ্যেই দু’জনে একসঙ্গে মদ্যপানও করত বলে জানতে পেরেছে পঞ্চসায়র থানার পুলিশ। তবে মহিলাকে গাড়িতে তোলার সময় থেকে শেষ পর্যন্ত সে গাড়িতেই ছিল না কি কাঠিপোতা থেকে তাকে গাড়িতে তুলেছিল উত্তম, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ।