ফাইল ছবি

অরুণাভ রাহারায়, কলকাতা: পার্শ্ব শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে এখনও জট কাটেনি। শিক্ষকরা অনেক দিন ধরেই আন্দোলনে নেমেছেন। এবার তাঁদের আন্দোলনকে সমর্থন করলেন কবই মন্দাক্রান্তা সেন। সল্টলেকে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে দেখা করেন মন্দাক্রান্তা দেন। তিনি মনে করেন, পঞ্চায়েত-বিধায়কদের বেতন বেড়েছে। এবার পার্শ্ব শিক্ষকদেরও বেতন বৃদ্ধি প্রয়োজন। এ ব্যাপারে সরকার নজর দিক।

কবি মন্দাক্রান্তা সেন kolkata24x7-কে বলেন, “পার্শ্ব শিক্ষকরা অনেক দিন ধরেই বঞ্চিত। তাঁদের শিক্ষকের সম্মান দেওয়া হচ্ছে না। চোখে পড়ার মতো বেতন বৈষম্য। তুলনামূলক ভাবে এই শিক্ষকদের বেতন অস্বাভাবিক কম। এর কারণ আমি বুঝতে পাড়ি না। প্রশাসনের উদাসীনতা না অভব্যতা? উপযুক্ত প্রাপ্যটুকু তাঁরা পাচ্ছে না। আমার প্রশ্ন তাঁদের প্রাপ্য টাকা কোন কাজে লাগছে? পঞ্চায়েত সদস্যদের বেতন বাড়ছে, বিধায়কদের বেতন বাড়ছে। তেলা মাথায় তেল দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের ঘরে চাল ভরন্ত।

কিন্তু শিক্ষা দেওয়া যাঁদের কাজ, তাঁদের ছেলেমেয়েরা কোন স্কুলে পড়বে, তাঁদের ঘরে চাল জুটবে কিনা– এইসব প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে যখন দাঁড়াই আমরা, ভীষণ অসহায় লাগে। এভাবে চলতে পারে না। তাই আমাদের লড়তে হবে। পার্শ্ব শিক্ষকরা পথে নেমেছেন। আমি তাঁদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্মতি জানাই। খারাপ লাগে যখন দেখি, ক্লাবগুলোকে টাকা দেবার সময় টাকা থাকে, খেলা, মেলা, উৎসবের সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের টাকা থাকে।

অথচ শিক্ষকদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া হয় না। তাঁরা বুদ্ধির মেহনত করেন কিন্তু উপযুক্ত পারিশ্রমিক পান না। তাঁদের দিকে কেন এত অসাম্য-বৈষম্য-উদাসীনতা– এর উৎস আমার জানা নেই। এরা বোধ হয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ভাবে ধ্বংস করে দিতে চাইছে। যাতে আগামী প্রজন্ম বুঝতে না পারে তারা আসলে কী অবস্থার মধ্যে পড়েছে!

কি অন্ধকার সময় তারা জন্ম নিয়েছে! সেই সম্পর্কে তাদের যেন উপযুক্ত চেতনা না জন্মায়। চেতনা না জন্মালে তারা প্রতিরোধ করতে পারবে না। প্রতিবাদ হবে না, প্রতিরোধ হবে না। তাদের কোনও বোধ জন্মাবে না। শিক্ষকরা আমাদের বোধ এবং চেতনার দীক্ষা দেন প্রাথমিক ভাবে। এর পেছনে বোধ হয় রাজনৈতিক অভিসন্ধি আছে। পার্শ্ব শিক্ষকদের দিকে সরকারের নজর দেওয়া উচিৎ।”

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ