সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : পুজোর গান। সে কেমন গান? আজকের প্রজন্ম জানে না শুধুমাত্র দুর্গা পুজো উপলক্ষে গানের অ্যালবাম রিলিজ করতেন সঙ্গীত শিল্পীরা। সেই সুরে ‘পঞ্চম সুর’ না থাকলে বাঙালির মনেই হত না পুজো আসছে। সেই পঞ্চম ‘সুরে’ই মণ্ডপ সাজিয়েছে ‘দেবলোক ডেকাসা’ আবাসন।

গত বছরেই সুরের মূর্ছনায় দর্শকদের ভুলিয়েছিল উত্তর কলকাটার ‘কাশী বোস লেন’-এর মণ্ডপ। কিন্তু থিমে শুধু এখন বারোয়ারীর আধিপত্য নয়। আবাসনের পুজোগুলিও এই তালিকায় নাম লিখিয়েছে। সল্টলেক হোক কিংবা বাগুইআটি বা সুদূর কামালগাজি এই সমস্ত এলাকায় আবাসনের পুজোগুলির বেশ রমরমা। বিশাল আবাসনের বাসিন্দারা একযোগে ‘একান্নবর্তী’ হয়ে দুর্গা পুজো করেন।

বিভিন্ন সংস্থার পুরস্কারের তালিকাতেও এখন নাম লেখায় আবাসনের পুজো। সেগুলির মধ্যেই অন্যতম কামাগাজির ‘দেবলোক ডেকাসা’ আবাসন। পঞ্চম বর্ষে তাদের দুর্গোৎসবের থিম ‘পঞ্চম’ অর্থাৎ রাহুলদেব বর্মণ।

তাঁর গান ,ছবি, ক্যাসেটের পাশাপাশি তাঁর বিভিন্ন সুর দেওয়া ছবির নাম ক্যালিগ্রাফি প্রিন্টিং করে পুরো আবাসনটাকে সাজিয়েছে ‘দেবলোক ডেকাসা’ পুজোর কর্মকর্তারা। যেখানে প্রতিমা বসানো হয়েছে সেখানে অপেরার মতো সাজানো হয়েছে।

মণ্ডপের বাকি অংশে ফ্লেক্স, ব্যনার, সুরের নোটেশনের কাটআউট দিয়ে সাজানো হয়েছে। রয়েছে হারমোনিয়াম, স্যাক্সোফোনের কাটআউট দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি কাটআউটের উচ্চতা পাঁচ ফুট করে। মণ্ডপের থিম মিউজিক আবাসিকদেরই তৈরি করা। সঙ্গে আবাসন ভরিয়ে দেওয়া হয়েছে আলো দিয়ে।

সঙ্গে গ্রুপ থিয়েটার, গান, নাচসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। আবসন পুজোর যুগ্ম সম্পাদক রাজর্ষি রায় বলেন , “সবাইকে এক সুরে বাঁধতেই আবাসনের এই পুজোর শুরু হয়েছিল। সেই সুরকে আরও সুন্দর করতে পারে আরডি অর্থাৎ পঞ্চমের সুর।

পাশাপাশি আমাদের পুজোর এই বছর পঞ্চম বছরে পড়ল। তাই থিমের বিষয় হিসাবে পঞ্চমকে বেছে নেওয়া হয়েছে।” অন্যন্য বছরের মতো এই বছরেও পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজের হাতে। ষষ্ঠীর শুভ দিনে বেশ কিছু দুঃস্থদের শিশুদের আর্থিক সাহায্যও করে আবাসনের পুজো কমিটি।

নবমীর শেষ রাতে আবারও বাজবে পঞ্চম সুর। এবার সেই সুর বিষাদের। ‘মা’ শ্বশুর বাড়ি ফিরে যাওয়ার পালা আসন্ন।