কলকাতা: বাংলায় ধর্মের রাজনীতি করা যাবে না, দেশের অন্যত্র যা সম্ভব তা বাংলায় করা যাবে না। এখানে মানুষ রাজনৈতিকভাবে অবগত, শিক্ষিত। উপনির্বাচনে বিজেপির ধরাশায়ী হারের ঠিক একদিন পরেই, রাজ্যে দলের ভাইস-প্রেসিডেণ্ট চন্দ্র বোস বলেন, বিজেপির রাজ্যভিত্তিকভাবে প্ল্যান করতে হবে। ভারতের অন্যপ্রান্তে যে ভাবনা সহজেই কার্যকর করা যায় তা বিবেকানন্দ এবং নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের মাটিতে সম্ভব নয়।

আরও অনুসন্ধানী হতে হবে দলকে, নেতাজীর প্রপৌত্র চন্দ্র বোস এমনটাই মনে করেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “এনআরসি বিষয়টি ভিত্তিহীন। উপনির্বাচনের আগে কখনই এটা প্রাথমিক ভিত্তি হতে পারে না।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “বিজেপির জন্য দলকে কিছুটা সাফ করার দরকার আছে এবং পশ্চিমবঙ্গের জন্য নির্দিষ্ট কৌশল আনতে হবে। দলের ভুলগুলো শুধরে নিতে হবে। ভারতের অন্যপ্রান্তে যে ভাবনা সহজেই কার্যকর করা যায় তা বিবেকানন্দ এবং নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের মাটিতে সম্ভব নয়।”

এছাড়াও তিনি বলেছেন, রাজ্যের প্রাথমিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন ঘটানোর চেষ্টা করাই রাজনৈতিক দলের প্রথম কাজ। ভোট ব্যাংকের জন্য মানুষের মধ্যে বিভেদ না তৈরি করার পরামর্শ বিজেপি নেতা চন্দ্র বোসের।

সারা দেশ জুড়ে যে নীতি নেওয়া যায় তা পশ্চিমবঙ্গে সম্ভব নয়। এনআরসি বিষয়টি ভিত্তিহীন। উপনির্বাচনের আগে কখনই এটা প্রাথমিক ভিত্তি হতে পারে না। আমরা অন্য বিষয়কেও আলোকপাত করতে পারতাম।”

লোকসভা ভোটে হেরে যাওয়ার পর তিন বিধানসভা আসনে তৃণমূল জয়লাভ করেছে। পশ্চিমবঙ্গের তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনে তৃণমূল জয়লাভ করেছে। এমনকি বিজেপির গড় কালিয়াজগঞ্জ এবং খড়গপুর ছিনিয়ে নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল সুপ্রিমো জানিয়েছেন, “বিজেপিকে ঔদ্ধত্য এবং অহংকারের দাম দিতে হচ্ছে।” বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন, বাংলাকে আর ভাঙতে দেব না। এনআরসি নিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। যার জবাব বাংলার মানুষ বিজেপিকে দিয়েছে।

লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের অপ্রত্যাশিত ফলের পর থেকেই মমতা বন্দোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য বিভিন্ন স্তরে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। অবৈধ অনুপ্রবেশকারিদের আটকানোর নামে বিজেপির একচেটিয়া এনআরসি প্রচার সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ের জন্ম দিয়েছে বলেই মনে করেন তৃণমূল প্রধান।

অন্যদিকে, একদা কংগ্রেসের শক্ত মাটি খড়গপুর যা পরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের এলাকা হিসেবে পরিচিত তা তাঁদের হাতছাড়া হয়েছে। তৃণমূল সেখানেও বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। বিজেপির অন্দর প্রশ্ন উঠেছে, ওভার-কনফিডেন্সের ফল পাচ্ছে বিজেপি। এছাড়াও রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ ঝরে পরছে দলের একাংশের তরফে। পক্ষপাতিত্ব থেকে যোগ্য ব্যাক্তির অভাব সবটাই রয়েছে সেই তালিকায়।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের আর ১৮ মাস বাকি। উপনির্বাচনের ফল তৃণমূলকে আরও অনেকটা এগিয়ে রাখবে তাও স্পষ্ট হয়ে গেল। ছয়মাস আগেই লোকসভা নির্বাচনের তৃণমূলকে হারিয়েছে বিজেপি। কয়েকমাসের ফারাকেই মানুষের এই রায় অবাক করা নয়।