তিমিরকান্তি পতি: ‘বাঁকুড়ার রাণী’ মুকুটমনিপুরে পর্যটন শিল্পের বিকাশে অভিনব উদ্যোগ নিল প্রশাসন। খাতড়া মহকুমা প্রশাসন ও তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের উদ্যোগে এবং মুকুটমনিপুর ট্যুরিজম নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় মুকুটমনিপুরে আয়োজন করা হয় ‘পলাশ উৎসবে’র।

শান্তিনেকতনের মতো এখানেও বৃহস্পতিবার দোল উৎসবের দিন রংবেরং এর আবির, পলাশ আর গানে গানে মুখরিত হলো মুকুটমনিপুর। স্থানীয় ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ে শোভাযাত্রা শেষে জলাধারারের সামনের রাস্তার পথচিত্রের উপর হলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সঙ্গে দেদার আবির খেলা। এদিন স্থানীয় বেশ কয়েকটি স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরাও যোগ দেয় অনুষ্ঠানে।

রাজ্যের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্থান করে নিতে চলেছে ‘বাঁকুড়ার রাণী’ মুকুটমনিপুর। জল, জঙ্গল আর পাহাড়ের টানে প্রকৃতির মাঝে কয়েকটা দিন কাটানোর এখন সেরা ‘ডেস্টিনেশন’ মুকুটমনিপুর। এখানে এখন পর্যটন মরশুম বলে কিছু নেই। সারা বছরই ভ্রমণ প্রিয় বাঙ্গালী পৌঁছে যাচ্ছেন মুকুটমনিপুরে। এমনকি দেশ-বিদেশ থেকেও আসা পরিযায়ী পর্যটকের সংখ্যাটাও নেহাত কম নয়।

২০১৬ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তৈরি করেছেন মুকুটনিপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। অথরিটির উদ্যোগেই প্রকাশ্যে এখানে মদ্যপান, ধূমপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পিকনিক করার সময় সাউন্ড বক্স বাজানো সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর জোর দিতে ‘ক্লিন মুকুটমনিপুর, গ্রিন মুকুটমনিপুর’ প্রকল্পের কাজ চলছে। একই সঙ্গে সৌন্দর্যায়নের অঙ্গ হিসেবে বসানো হয়েছে সুদৃশ্য পথবাতি। মুকুটমনিপুরের ‘পথচিত্র’ এখন এখানে আসা পর্যটকদের অন্যতম দেখার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মুকুটমনিপুর ডেভেলপম্যান্ট অথরিটির মেম্বার সেক্রেটারি তথা খাতড়া মহকুমা শাসক তনয় দেব সরকার বলেন, মুকুটমনিপুর ডেভেলপম্যান্ট অথরিটি গঠনের পর এখানে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।।পলাশ উৎসবের আয়োজন করার মূল উদ্দেশ্য হলো এখানে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ঘটানো। সাম্প্রতিক হিসেব অনুযায়ী দু’কোটি আটষট্টি লক্ষ টাকা এম.ডি.এ -র আয় হয়েছে বলেও তিনি জানান।

প্রশাসনিক উদ্যোগে দোলের দিন ‘পলাশ উৎসবে’র আয়োজনে খুশি স্থানীয় মানুষ থেকে এখানে আসা পর্যটকরা। কলকাতার গড়িয়া থেকে আসা দীপিকা কুণ্ডু, শ্রীতমা গাঙ্গুলিরা বলেন, প্রতিবছর এই দিনে শান্তিনিকেতন যাই। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়াতে এখানে প্রথমবার ‘পলাশ উৎসবে’র খোঁজ পাই। আর সিদ্ধান্ত নিতে দেরী করিনি। সব বন্ধুরা মিলে চলে এসেছি। এখানে এসে মনে হচ্ছে সেদিন আমরা ভুল সিদ্ধান্ত নিইনি। শান্তিনিকেতনের চেয়ে এখানে কম আনন্দ হল না। আগামী দিনে সুযোগ পেলে এখানে তারা আবারো আসবেন বলে জানান।

‘পলাশ উৎসবে’র ‘সহযোগী সংস্থা’ মুকুটমনিপুর ট্যুরিজমের অনির্বাণ দাশ বলেন, পর্যটকদের সামনে এক অন্য মুকুটমনিপুরকে তুলে ধরতেই এই পলাশ উৎসবের আয়োজন। এদিন অসংখ্য মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। সবাই নিজেদের মতো করে কাটিয়েছেন আজকের দিনটা। সরকারীভাবে এই ধরণের উদ্যোগে তাঁদের সংস্থা আগামী দিনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে বাঁকুড়া শহরের সুকুমার উদ্যানে আলেখ্য টেগোর কালচারাল আকাদেমির উদ্যোগে বসন্ত উৎসব পালন করা হয়। অংশ নেন আকাদেমির সদস্য সহ অসংখ্য সাধারণ মানুষ। এছাড়াও ইন্দাসের আকুই সংস্কৃতি সমিতি, সারেঙ্গার প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষণ কেন্দ্র সহ বিভিন্ন সংস্থার তরফে বসন্ত উৎসব পালনের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

প্রশ্ন অনেক: দশম পর্ব

রবীন্দ্রনাথ শুধু বিশ্বকবিই শুধু নন, ছিলেন সমাজ সংস্কারকও