ইসলামাবাদঃ  দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত পাকিস্তানে তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের মানুষরা। খুব কষ্ট করেই এই সম্প্রদায়ের মানুষকে পাকিস্তানের মাটিতে চলতে হয়। বেশিরভাগ সময়ে শারীরিক-মানসিকভাবে নিগ্রহের শিকার হতে হয় তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের। বয়সকালে সবথেকে খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে তাঁদের যেতে হয়। পরিবার ফেলে রেখেই চলে যায়।

এই বিষয়ে সরকারও উদাসিন। নয়া পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখালেও ইমরান খান সরকারও এই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন। বয়সকালে তাঁদের মাথা গোঁজার যাতে একটা ঠাই হয় সেজন্যে বৃদ্ধ নিবাস তৈরি করে দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। সে দেশের তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের ‘খাওয়াজা সেহরাস’ বলে ডাকে।

তথ্য বলছে তৃতীয় লিঙ্গ নিয়ে জন্ম নেওয়ায় বেশিরভাগ সময় তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। তবে তারা অন্য সব মানুষের মতোই বৃদ্ধ বয়সে পা রাখে। সেই সময় তাদের দেখভালের কেউ থাকে না। পাকিস্তানে আনুমানিক পাঁচ লক্ষেরও বেশি তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ রয়েছে। আর এই অসহায় মানুষগুলোর কথা চিন্তা করে তাদেরই সম্প্রদায়েরই একজন সম্প্রতি একটি বৃদ্ধনিবাস তৈরি করেছেন। যার নাম দেয়া হয়েছে ‘গুরু-চেলা’ ব্যবস্থা। গুরু মানে বয়স্ক কেউ, আর চেলা মানে বয়সে তরুণ কেউ। কিন্তু এই ব্যবস্থা সব সময় কাজ করে না। এই সমস্যা নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা দিয়ে অনুধাবন করেছিলেন আশি বাট্।

আন্তজার্তিক এক সংবাদমাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, একদিন একটা লোক হন্তদন্ত করে আমার কাছে এসে বলল গত সপ্তাহখানেক হল মর্গে তোমাদের একজনের মরদেহ পরে রয়েছে। কেউ সেই মরদেহ দাবি করেনি বলে কোন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হয়নি। আমার খুব কষ্ট লেগেছিল। আমি বিষয়টা মেনে নিতে পারিনি। সেখান থেকেই মাথার মধ্যে একটা ধারনা ঘুরপাক খেতে থাকলো। এরপর গত আট বছর ধরে চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন আশি বাট। অবশেষে এই বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নিজের সম্প্রদায়ের বয়স্কদের জন্য একটি বৃদ্ধ নিবাস চালু করেছেন তিনি।

বয়সের সঙ্গে পরিবর্তন হয় তৃতীয় লিঙ্গের এসব মানুষের জীবন। অর্থের বিনিময়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের যৌনতা কেনা যায় পাকিস্তানের মাটিতে। তাদের নাচ দেখা যায়।তবে যারা অল্প বয়সীদের তুলনায় যাদের বয়স বেশি তারা কম পয়সায় এই সমস্ত কাজ করে থাকেন। আর যখন বৃদ্ধ হয়ে যায় তখন তাদের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পরে।

নতুন ধারার পাকিস্তানে মানুষের চিন্তার ধারাও পরিবর্তন হচ্ছে। সেখানে তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের সব সময় একটা অবস্থান ছিল। মুঘল আমলে এমনকি তারা রাজদরবারে উপদেষ্টা হিসেবেও নিয়োগ পেতেন। পাকিস্তানে এখনও অনেকে মনে করেন হিজড়ারা নব দম্পতি ও শিশুদের আশীর্বাদ করলে তা কাজে লাগে। তাদের প্রতি বৈষম্যও ব্যাপক। এখনও তাদের প্রধান পেশা নাচ, ভিক্ষাবৃত্তি ও যৌনকর্মী হিসেবে কাজ করা।