নয়াদিল্লি : দ্বিচারিতার পুরোনো অভ্যাসেই রয়েছে পাকিস্তান। দিন কয়েক আগেই ভারতের একাধিক অংশ মানচিত্রে যুক্ত করে পাকিস্তান। প্রকাশিত হয় সেই বিতর্কিত ম্যাপ। এতদিন পর্যন্ত পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের অংশকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অংশ বলে দাবি করত না। গিলগিট-বালতিস্তানকে নিজেদের বলে উল্লেখ করলেও বাকি অংশকে পাকিস্তান ‘আজাদ কাশ্মীর’ বলে উল্লেখ করত।

পাকিস্তানের নতুন ম্যাপে কাশ্মীরকে নিজেদের অংশ বলে দেখিয়ে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি বলেন, এই প্রথমবার পাকিস্তান গোটা বিশ্বের সামনে নিজেদের অবস্থাব স্পষ্ট করল। তিনি দাবি করেন, কাশ্মীরের বিতর্কিত অংশের সমস্যা যেন মেটানো সম্ভব হয় রাষ্ট্রসংঘের সাহায্যে।

এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করে ভারত। গোটা পদক্ষেপকে অবাস্তব ও অযৌক্তিক বলে উড়িয়ে দিয়ে নয়াদিল্লি জানিয়ে ছিল, এই ম্যাপের কোনও ভিত্তি নেই। এবার পাকিস্তানের নয়া চাল। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা কিছু তথ্য গোপন করতে চাইছে পাকিস্তান। কারণ দ্যা সার্ভে অফ পাকিস্তান সাইট নামে একটি জাতীয় সার্ভে ও ম্যাপিং সংস্থার কোনও তথ্য বা পরিসংখ্যান ভারতে পাওয়া যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন এই ঘটনা তখনই ঘটতে পারে, যখন ভারতকে ওই ওয়েবসাইটে ব্লক করা হবে। অর্থাৎ যে নতুন বিতর্কিত ম্যাপ ওই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছিল, তা যাতে ভারত দেখতে না পায়, সেই ব্যবস্থা করেছে পাকিস্তান। বিশেষজ্ঞদের মতে অত্যন্ত হাস্যকর এই পদক্ষেপ।

ভারত থেকে দেখা না গেলেও বিশ্বের অন্যান্য প্রান্ত থেকে ওই সাইটের তথ্য ভারত পেতে পারে। তাই ভারতকে ব্লক করে কোনও লাভ পাবে না ইসলামাবাদ। উল্লেখ্য এই নতুন ম্যাপে কাশ্মীরের বেশিরভাগ অংশ পাকিস্তান নিজেদের এলাকাভুক্ত বলে দেখিয়েছে। সিয়াচেন হিমবাহের ২৬৭ একর জমি ভারতের সীমানাভুকেত।

এটা আন্তর্জাতিক সীমানা বলেই পরিচিত। পাকিস্তানের এখানে কোনও অংশ নেই। তবে নতুন ম্যাপ জানাচ্ছে এনজে-৯৮৪২ এলাকা থেকে কারাকোরাম পাস পর্যন্ত পুরোটাই পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত। বাস্তবে এন জে ৯৮৪২ হল নিয়ন্ত্রণরেখার উত্তর প্রান্তের নির্দিষ্ট বা নির্ধারিত করা ভারতীয় সীমানা।

এখান থেকে উত্তর পশ্চিমে ইন্দিরা কল পর্যন্ত ভারতের সীমানার অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য ১৯৮৪ সালে অপারেশন মেঘদূতের মাধ্যমে সিয়াচেন গ্লেসিয়ারের অধিকার দখল করে ভারত। ইন্দিরা কল সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৮,৯১১ ফুট উচ্চতায় ভারতের সর্বাধিক উত্তরের সীমানা চিহ্নিত করে।

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা