প্রতীকি ছবি

ভারতে হামলার জন্য যে পাক জঙ্গি সংগঠনগুলিকে সেদেশের সেনাবাহিনী মদত দিয়ে থাকে, সেটা নতুন বিষয় নয়। তবে একসময় সামনে এসেছিল এক ভয়ঙ্কর তথ্য। জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রীতিমত বায়োলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার বা জৈব অস্ত্রে যুদ্ধের ছক কষছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই।

কাশ্মীরে অশান্তি তৈরি করতে যে আইএসআই-এর হাত রয়েছে, সেটা সবারই জানা। জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে, তাদের পিছনে টাকা ঢেলে, এমনকি সীমান্ত পার করে জঙ্গি পাঠিয়ে ভারতের উত্তর সীমান্তে আগুন জ্বালানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে পাক সেনা ও পাকিস্তানি গুপ্তচরেরা। তবে গত বছর ভারতীয় গোয়েন্দাদের একটি রিপোর্টে বলা হয়, ভারতের উপর হামলা চালাতে বায়োলজিক্যাল অস্ত্র ব্যবহারের জন্য পাক জঙ্গিদের সঙ্গে রীতিমত বৈঠক করেছে আইএসআই-এর ডিরেক্টর জেনারেল। ২০১৭-তে হয় সেই বৈঠক।

গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৭-এর ৯ অক্টোবর পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বাগ জেলার চাকোটিতে হিজবুল ও জয়েশের জঙ্গিদের সঙ্গে বৈঠক করেন নাভেদ। শুধু তিনি একাই নন, সঙ্গে ছিলেন তিন আইএসআই অফিসার- ব্রিগেডিয়ার হাফিজ আহমেদ, লেফট্যানেন্ট কর্নেল জাভেদ আহমেদ ও মেজর জাফর আলি। পাক সেনার প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন, ক্যাপ্টেন মনসুর আলি। আর ছিলেন দুই জঙ্গি শীর্ষনেতা, হিজুবলের জুদ্দা খান আর জয়েশের জাভেদ আখতার।

রিপোর্টে আরও বলা হয়, ‘আইএসআই প্রধান ওই তিন পাক গোয়েন্দা অফিসার ও এক সেনা অফিসারকে দায়িত্ব দেন, যাতে তাঁরা জঙ্গিদের হাতে প্রয়োজন মত টাকা তুলে দেন।’

তবে সবথেকে ভয়ানক বিষয় হল, চিন থেকে বায়োলজিক্যাল ওয়ারফেয়ারে প্রশিক্ষণ নেওয়া পাক সেনা জওয়ানদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ভারতের সীমান্তের কাছে। কিভাবে হামলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে সেটা স্পষ্ট নয়, তবে রিপোর্ট বলছে, চিন থেকে বায়োলজিক্যাল ওয়ারফেয়ারের ট্রেনিং নিতে গিয়েছে পাকিস্তানের মেজর ও ক্যাপ্টেনে র‍্যাংকের ২০ জন আর্মি অফিসার। ট্রেনিং শেষ হলে তাদের মোতায়েন করা হবে অধিকৃত কাশ্মীরে। ভারতকে যে খুব খারাপ কোনও পরিস্থিতির জন্য তৈরি হতে হবে, গোয়েন্দা রিপোর্ট থেকে সেটা বেশ স্পষ্ট।