নয়াদিল্লি : পাকিস্তানের দ্বিচারিতা অব্যাহত৷ একদিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে পাকিস্তান, অন্যদিকে বিএসএফ জওয়ানকে খুন করছে পাক সেনা৷ মঙ্গলবার বিএসএফের হেড কনস্টেবল নরেন্দ্র সিংকে নৃশংস ভাবে খুন করে পাক সেনা৷ অন্যদিকে বৃহস্পতিবারই ভারত পাকিস্তান সুস্পর্কের ইঙ্গিত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি পাঠান পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷

১৮ই সেপ্টেম্বর জম্মু কাশ্মীরের সাম্বা সেক্টরে বিএসএফের এক জওয়ান শহিদ হন৷ জম্মুর রামগড় সেক্টরে ওই বিএসএফ হেড কনস্টেবলের ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়৷ গত কয়েকদিন ধরেই নিখোঁজ ছিলেন ওই জওয়ান৷ সূত্রের খবর, পাকিস্তান বর্ডার অ্যাকশন টিম তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করে৷ জওয়ানের অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়, চিরে দেওয়া হয় গলা৷ দেহে একাধিক ছুরির আঘাতও ছিল৷ শরীর থেকে মাথা আলাদা করে দেওয়ার মতো বর্বরোচিত প্রচেষ্টাও বাদ যায়নি বলে জানা যায়৷

বৃহস্পতিবার সেই জওয়ানের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়৷ আর এই বৃহস্পতিবারই পাক প্রধানমন্ত্রীর চিঠি এসে পৌঁছয় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দফতরে৷ একদিকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুবিচার চাইছে শহিদ জওয়ানের পরিবার, অন্যদিকে পাকিস্তানের কূটনৈতিক চাল৷ সব মিলিয়ে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে মোদী সরকার৷

জওয়ানের নৃশংসভাবে খুন হওয়ার পরেই কড়া নিরাপত্তা ও সতর্কতা জারি করা হয়েছে উপত্যকা জুড়ে৷ বিশেষত আন্তর্জাতিক সীমানা বরাবর জোরদার নজরদারি চালাচ্ছে সেনাবাহিনী৷ ১৯২ কিমি লম্বা আন্তর্জাতিক সীমানা ও ৭৪০ কিমি লম্বা নিয়ন্ত্রণরেখা ধরে চলছে টহলদারি৷

এদিকে, শান্তি স্থাপনের জন্য আলোচনার ডাক দিয়ে মোদী চিঠি লিখেছেন ইমরান খান৷ এই চিঠিতে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার বার্তা দিয়েছেন ইমরান। পাঠানকোট এয়ারবেস অ্যাটাকের পর থেকেই স্থগিত হয়ে আছে দুই দেশের শান্তি আলোচনা। কাশ্মীর কিংবা জঙ্গিবাদের মত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলি নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছেন ইমরান। এর আগে ২০১৫ তে শেষবার ইসলামাবাদে এক সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন সুষমা স্বরাজ।

১৭ অগস্ট জয়ী হয়েই ভারতের জন্য সুসম্পর্কের ইঙ্গিত দেন ইমরান খান৷ জয়ের পরই সাংবাদিক বৈঠকে প্রথমেই কাশ্মীর সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, দ্রুত সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজবেন৷ আলোচনাই একমাত্র কাশ্মীর সমস্যার সমাধান, তাই আলোচনায় বসেই সমস্যা সমাধানের ইঙ্গিত দেন পাকিস্তানের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷

কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে সন্ত্রাস ও আলোচনা একসঙ্গে চলতে পারে না৷ জওয়ানের মৃত্যু সেই বক্তব্যকে আরও উসকে দিয়েছে৷ তাই আপাতত ইমরান খানের এই চিঠির ইতিবাচক জবাব ভারত দেবে না বলেই মনে করা হচ্ছে৷