ইসলামাবাদ: সন্ত্রাসে মদতের বদলা ভারতীয় বায়ু সেনার এয়ার স্ট্রাইক৷ সেই অভিযানের গভীরতা কত তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে ইসলামাবাদ৷ এখানেই শেষ নয়৷ পেড়িয়ে গিয়েছে সহ্যের সব সীমা৷ প্রতিবেশী ভারতের আঘাত আসতে পারে যখন-তখন৷ আশঙ্কার প্রহর গুনছে পাক সেনা থেকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব৷

গোটা পাকিস্তানে প্রধানমন্ত্রী ইমরানের নামে কটূক্তি৷ পাক সংসদেও জাতীয় সরকারের বিরুদ্ধে ‘ছিঃ ছিঃ’ স্লোগান বিরোধীদের৷ গোটা বিশ্ব আজ নয়াদিল্লির পাশে৷ কোণঠাসা ইসলামাবাদ৷ এই পরিস্থিতিতে ভারতের মারের হাত থেকে রেহাই পেতে আমেরিকার শরণাপন্ন ইমরাণ খানের সরকার৷

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি মঙ্গলবার রাতে ফোন করেন আমেরিকার বিদেশ সচিব মাইক পম্পিওকে৷ সেখানেই দক্ষিণ এশিয়ায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্য নয়াদিল্লিকে দায়ী করেন কুরেশি৷ জানা গিয়েছে, পাক বিদেশমন্ত্রী বলেন জঙ্গি ও পাকিস্তান সমার্থক নয়৷ তবু ভারত আগ্রাসী মনোভাব বজায় রেখেছে৷ এই অবস্থার বদল চায় ইসলামাবাদ৷

মার্কিন বিদেশ সচিবকে ফোনেই দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন পাক বিদেমন্ত্রী কুরেশি৷ তারপরই পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য ওয়াশিংটনের হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয় ইসলামাবাদের তরফে৷ পাকিস্তানের দাবি, ভারতের সাধারণ নির্বাচন আসন্ন৷ সেই জন্যই এই উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে সংকীর্ণ স্বার্থে৷ কিন্তু ইসলামাবাদ দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতায় হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করবে না৷

এই আলোচনায় কুরেশি পম্পিওকে বলেন, পাকিস্তান সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে৷ কিন্তু বাস্তবে সন্ত্রাস নির্মূলে ইসলামাবাদের কী পদক্ষেপ সে সম্পর্কে কোনও কথা দু’জনের মধ্যে হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি৷ মার্কিন হস্তক্ষেপের যুক্তি পোক্ত করতে এদিন কুরেশি ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেন আফগানিস্তানে তালিবানদের সঙ্গে আমেরিকার শান্তি চুক্তি ব্যহত হওয়ার সম্ভাবনাকে৷

 

পাম্পিও কুরেশি আলোচনার আগে ফোনে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন বিদেশ সচিবের৷ নয়াদিল্লির তরফে স্পষ্ট করা হয় কেন মঙ্গলবারের এয়ার স্ট্রাইক৷ সামরিক অভিযান নয়, জঙ্গি নিকেশ করতেই এই অভিযান বলে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় ভারতের তরফে৷ কথা হয় চিন, ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া সহ প্রতিবেশি দেশগুলির সঙ্গেও৷

পুলওয়ামা হামলার পরই ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল আমেরিকা, ব্রিটেন, ইজরায়েল সহ প্রায় গোটা বিশ্ব৷ আমেরিকা জানিয়েছিল সন্ত্রাস বন্ধে ভারতের যেকোনও পদক্ষপের পাশে রয়েছে ওয়াশিংটন৷ আন্তর্জাতিত স্তরেও পাকিস্তানকে এক ঘরে করার উদ্যোগ নেয় ভারত৷ তার আগে ট্রাম্প প্রশাসন সন্ত্রাসে মদতের অভিযোগে ইসলামাবাদের আর্থিক অনুদান আটকে দেয়৷ হতশ্রী অবস্থা পাক অর্থনীতির৷ চিনও প্রকাশ্যে পাশে দাঁড়াচ্ছে না৷ ফলে, একদিকে বিশ্ব আঙিনায় কোণঠাসা হওয়া, অন্যদিকে ভারতের কড়া জবাব৷ এই সাঁড়াশি আক্রমণে দিশেহারা ইসলামাবাদ৷ তাই প্রাণে বাঁচতে এখন আমেরিকাকে আঁকড়ে ধরতে চাইছে ইমরান এন্ড কোম্প্যানি৷