সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়: পাকিস্তান সরকারের প্রথম আইন এবং শ্রমমন্ত্রী হয়েছিলেন যিনি তিনি কিন্তু বেশিদিন থাকতে পারনেনি সে দেশে৷ একরাশ হতাশা নিয়ে পাকিস্থান ত্যাগ করে ফিরে এসেছিলেন ভারতবর্ষেই৷ সেই ব্যক্তি হলেন বড়িশালের যোগেন মন্ডল ৷

এটাই বড় ট্রাজেটি যে স্বাধীন ভারতে দলিতরা নিরাপদ নয় বরং পাকিস্তান অনেক নিরাপদ ভেবে পাকিস্তানের দাবিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন যে বঙ্গসন্তান, বছর তিনেক কাটতে না কাটতে তাঁর মোহভঙ্গ হয়েছিল৷ জিন্নার ভরসায় পাকিস্তানে গেলেও ১৯৫০ সালে হতাশ এই বাঙালিকে ফিরতে হয়েছিল নেহরুর ভারতবর্ষে ৷

সামাজিক প্রেক্ষাপটকে মাথায় রেখে যোগেন্দ্রনাথ আশংকা করেছিলেন , বর্ণহিন্দুদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে কৌশলগত দলিতদের স্বার্থরক্ষা সম্ভব নয়৷ আবার মুসলিম লিগেরও তখন যোগেন্দ্রনাথের মতো একজনকে প্রয়োজন ছিল৷ পাকিস্তানের জনক মহম্মদ আলি জিন্নাই সেই সময় যোগেনকে আশ্বাস দিয়েছিলেন পাকিস্তানে যে কোনও ধর্মের লোক সেখানে স্বাধীনভাবে তাদের নিজ নিজ ধর্মাচারণ করতে পারবে৷ তারফলে যোগেন মন্ডলের ধারণা হয়েছিল নবগঠিত পাকিস্তানে দলিত হিন্দুদের জন্য বেশি নিরাপদ আশ্রয়৷

১৯৪৭ সালের ১৪ অগস্ট পাকিস্তানের জন্ম হলে যোগেনই পাকিস্তানের কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি-র অস্থায়ী চেয়ারম্যান হন এবং আইন ও শ্রমমন্ত্রীর দায়িত্ব পান৷ তাছাড়াও তিনি কমনওয়েলথ ও কাশ্মীর বিষয়ক দ্বিতীয় মন্ত্রীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।কিন্তু পাকিস্তানে থাকতে থাকতে মোহভঙ্গ হতে থাকে যোগেনের৷ লক্ষ্য করতে থাকেন সেদেশে দলিতদের উপর কেমন করে আক্রমণ বাড়ছিল৷ বিশেষত জিন্নার মৃত্যু পর সেখানে ধর্মাচারণের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে থাকে৷

পাকিস্তানকে ইসলামি রাষ্ট্র ঘোষণার দাবি জোরদার হলে যোগেন এর বিরোধিতা করলেও তিনি অনুভব করেন তার কথার গুরুত্ব থাকছে না৷ তিনি মন্ত্রিসভায় আরও দুজন দলিতমন্ত্রীর দাবি তুললেও তৎকালীণ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকাৎ আলি খান তা অগ্রাহ্য করেন৷ ততদিনে তিনি বুঝে ফেলেছেন পাকিস্তানে সংখ্যালঘুরা আদৌ সুরক্ষিত নয়৷পদে পদে যোগেন মন্ডল অপদস্ত হচ্ছেন মন্ত্রিসভায় ৷ পাকিস্তানের নানা জায়গায় সংখ্যালঘু নিধন শুরু হয়েছে অথচ সরকার নিরব দর্শক৷

তিনি ১৯৫০ সালে অক্টোবর মাসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁর পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে দেন৷ তখন নব গঠিত দেশে পশ্চিমী পাকিস্তানীদের হাতেই শুধুমাত্র সংখ্যালঘু বাঙালি হিন্দুরা নিপীড়িত শোষিত হচ্ছিল তা নয়। যোগেন হতাশ হয়েছিলেন পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের আচরণেও । তিনি তার পদত্যাগপত্রে যোগেন উল্লেখ করেছিলেন, এটা বলা অন্যায্য নয় যে পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দুদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ‘নিজভূমে পরবাসী’ করা হয়েছে৷

কালের নিয়মে বরিশালের যোগেন মন্ডল পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে ফিরতে চাইলেন৷ যিনি নেহরু-গান্ধীর ভারতে দলিতরা নিরাপদ নয় বলে দাবি তুলে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন তিনটে বছর কাটতে না কাটতে তাঁকেই ফিরতে হল কলকাতায়৷ তার পরে বেশ কয়েক বছর এই বাংলায় থাকলেও জনগণের কাছে তাঁর তেমন কোনও গুরুত্ব ছিল না৷ ১৯৬৮ সালে ৫অক্টোবর তার মৃত্যু হল এই বাংলার বনগাঁয় ৷ তবে তার আগে ১৯৬৭ সালে বারাসাত কেন্দ্র থেকে ভোটে দাঁড়িয়ে হেরেছিলেন বড়িশালের যোগেন মন্ডল৷

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা