প্রতীকি ছবি

ইসলামাবাদ: ২০০৫-এ এক ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়েছিল পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে। মঙ্গলবার ভোরেও সেরকমই একটা ভূমিকম্পের কথাই ভেবেছিল বালাকোটের বাসিন্দারা। সাড়ে তিনটে নাগাদ ঘুম ভেঙে যায় বালাকোটের বাসিন্দাদের। যেন থরথর করে কেঁপে উঠল ঘরবাড়ি। ভোরে তাঁরা বুঝতে পারলেন, ভূমিকম্প নয়, একেবারে কান ঘেঁষে যুদ্ধবিমান নিয়ে অভিযান চালিয়ে গিয়েছে ভারতের বিমানবাহিনী।

রয়টার্সে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট বলছে, ওই এলাকায় জইশ জঙ্গিদের আনাগোনার কথাও স্বীকার করেছেন এলাকার বাসিন্দারা।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে হামলা চালায় জইশ জঙ্গিরা। পাকিস্তানে জইশ জঙ্গিদের ঘাঁটি থাকা সত্বেও পাকিস্তান ওই হামলার দায় অস্বীকার করে। বদলা নেওয়ার কথা সেদিন থেকেই বলে আসছিল ভারত। অবশেষে ১২ দিন পর পাকিস্তানের মাটিতে ঢুকে এয়ার স্ট্রাইক চালিয়ে বায়ুসেনা ধুলিস্যাৎ করে এসেছে জঙ্গিঘাঁটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বালাকোটের এক বাসিন্দা বলেন, এলাকায় একটি মাদ্রাসা ছিল। সেটা জইশ-ই-মহম্মদ চালাত, এমনটাই তাঁরা জানতেন। যদিও জঙ্গিদের উপস্থিতির কথা একটু রেখে ঢেকেই বলেছেন তাঁরা। এলাকার একটি পাহাড়ের মাথায় ছিল সেই মাদ্রাসা।

আরও এক গ্রামবাসী জানিয়েছেন, বেশ কয়েক বছর ধরেই এলাকায় জঙ্গিদের উপস্থিতি ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে থাকি। আমি জানি এখানেই অনেকদিন ধরে জইশের একটা ট্রেনিং ক্যাম্প ছিল। পরে সেটা মাদ্রাসায় পরিণত হয়।’ তবে তিনি এও জানান যে মাদ্রাসা চললেও সেখানে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খুব বেশি ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাউকে ওই বিল্ডিংয়ে যেতে দেওয়া হত না। সেখানে অনেক ছাত্র থাকত বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সীমান্ত থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা কাঘান ভ্যালির কাছেই অবস্থিত এই বালাকোট। ২০০৫ সালে ওই এলাকা ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

মহম্মদ আজমল নামে এক গ্রামবাসীও বলেন ভোর ৩টে নাগাদ কান ফাটানো আওয়াজ আসে। কিন্তু তখন ঠিক কী হয়েছিল তিনি জানেন না। সকালে তাঁরা দেখেন কিছু গাছ, বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারটি গর্তও দেখা গিয়েছে, যেখানে বোমা ফেলা হয়েছে।

৪৬ বছরের এক কৃষক ফিদা হুসেন শাহ বলেন, তাঁরা ভারতের কিছু অস্ত্রের অংশ, স্প্লিন্টার কুড়িয়ে পেয়েছেন।