জম্মু কাশ্মীর: ফের উত্তপ্ত সীমান্ত। মঙ্গলবার পাক সেনারা ফের গুলি চালায় ভারতীয় সীমান্ত লক্ষ্য করে। জানা গিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চ জেলায় গুলি বর্ষণ করে পাক বাহিনী। যার জেরে প্রাণ গেল কমপক্ষে ২ জনের। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬ জন।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফে জানা গিয়েছে, বেলা আড়াইটা নাগাদ পাক বাহিনী সীমান্ত উত্তপ্ত করে তোলে। পাকিস্তানের তরফে মর্টার শেলিং-ও করা হয় বলে জানানো হয়েছে। এরপরেই প্রত্যুত্তর দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী।

জানা গিয়েছে, বর্ডারের ওপারের শাহপুর এবং কিরনি সেক্টর থেকে এই হামলা চালানো হয়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামলেও গুলি চালানোর ঘটনা চলছিলই।

প্রসঙ্গত, শেষ তিন মাসে জম্মু ও কাশ্মীরে ৯৫০ বার নিয়ন্ত্রণ রেখায় সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকমাস ধরেই ভারত-পাক দ্বন্দ্ব বেড়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পাকিস্তানের তরফ থেকে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করার একের পর এক ঘটনা। চলতি বছরের অগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই তিন মাসে লাইন অফ কন্ট্রোল বা (এলওসি)-তে প্রায় ৯৫০টি সংঘর্ষ বিরতির ঘটনা ঘটেছে।

চলতি বছরে ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনীর উপর ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলা চালায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন। এই হামলার জবাবে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে অভিযান চালায় ভারতীয় সেন। তছনছ করে দেওয়া হয় জঙ্গি লঞ্চপ্যাড। নিকেশ করা হয় ১০-১২ জন জঙ্গিকে। এরপর থেকেই ভারতের দিকে একাধিকবার সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে গোলা বর্ষণ করেছে পাক সেনা।আসলে শীত পড়ার আগেই উপত্যকায় নাশকতা চালাতে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ করানোর লক্ষ্যেই এই গোলা বর্ষণ করে পাক সেনা। পাকিস্তানের গোলাবর্ষণের জবাব দিয়েছে ভারতও।

কেন্দ্রের কাছে ভারতীয় গোয়েন্দারা রিপোর্ট দেন যে জম্মু-কাশ্মীরে শীতকালে নাশকতার ছক কষছে পাক মদতপুষ্ট বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন। জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করার পর থেকেই উপত্যকাকে অশান্ত করতে একের পর এক জঙ্গি হামলা চালিয়েছে লস্কর-ই-তৈবা,হিজাবুল মুজাহিদিন সহ বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন। গত মাসেই জাকির মুসার উত্তরসূরি তথা আল-কায়দার কাশ্মীর শাখার প্রধান হামিদ লেলহারিকে খতম করে দেয় ভারতীয় সেনা।