নয়াদিল্লি: বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে না এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। খুব সহজে আর তারা যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে এই হোয়াটসঅ্যাপ। আর এই সুযোগটাই নিচ্ছে পাকিস্তানি সাইবার অপরাধীরা। নিরাপত্তা বিশারদেরা মনে করছেন, হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়ো একাউন্ট তৈরি করে একটি বিখ্যাত শো এর নাম করে সাধারণ মানুষের থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পাকিস্তানি একদল প্রতারক।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তরফ থেকে সম্প্রতি এ ব্যাপারে একটি সতর্ক বার্তা জারি করা হয়েছে। জানানো হয়েছে একটি প্রখ্যাত টিভি শোয়ের নাম করে হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপ খোলা হচ্ছে এবং সেখান থেকে ভুয়ো মেসেজ পাঠিয়ে এই কাজ করা হচ্ছে বলেও জানানো হচ্ছে। এই নিয়ে সাইবার বিভাগে অভিযোগও করা হয়েছে। সিকিউরিটি এজেন্সিগুলি জানাচ্ছে, ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’ শো-এর নাম করে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে এই চক্র।

মুম্বইয়ের নালাসোপারার বাসিন্দা কবিতা এবং তাঁর পরিবার এই প্রতারণা চক্রের শিকার হন। তাঁরা এই অপরাধীদের কাছ থেকে একটি ভুয়ো ফোন পান যেখানে তাদের বলা হয় লটারির মাধ্যমে তারা ২৫ লক্ষ টাকা জিতেছেন। তাঁর পরিবার এই কথা বিশ্বাস করেন কিন্তু পরে তাদের থেকেই টাকা খোয়া যায়।

আরও জানানো হয়েছে এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ গুলোর অ্যাডমিন দুটি পাকিস্তানি নম্বর। ৯২-৩০৭৭৯০২৮৭৭ এবং ৯২-৩০৪০৯৪৩২৯৯ এই দুটো নম্বরকে চিহ্নিত করা হয়েছে।। সাইবার বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে যদি কেউ এই গ্রুপে কোন ভাবে যুক্ত হয়ে থাকেন তারা যেন খুব দ্রুত গ্রুপ ছেড়ে বেরিয়ে যান।

সাইবার বিভাগ অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মরত সেনাদের অন্তত ২০০টি ভুয়ো ট্যুইটার হ্যান্ডেল শনাক্ত করেছে। সেখান থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতে জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নানা ধরনের মেসেজ ছড়ানো হচ্ছিল।

সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন হোয়াটসঅ্যাপের এই ধরনের ভুয়ো গ্রুপ থেকে বাঁচার জন্য এবং নিজেদের টাকা পয়সা রক্ষা করার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ সেটিং কে একটু পরিবর্তন করলে হবে।

সেটিং গিয়ে সেখান থেকে একাউন্ট অপশানে গিয়ে প্রিভেসি এবং গ্রুপ অপশন খুলতে হবে। তারপর সেখান থেকে মাই কন্টাক্ট অপশন সিলেক্ট করলে রেহাই পাওয়ার একটা সুযোগ পেতে পারেন সাধারণ মানুষজন। এর ফলে কনটাক্ট লিস্টে নেই এমন কেউ আপনাকে গ্রুপে অ্যাড করতে পারবে না।

এছাড়াও সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন হোয়াটসঅ্যাপে কেবলমাত্র চেনা গ্রুপে যোগ করার কথা অচেনা কোন গ্রুপ থেকে যুক্ত হওয়ার আমন্ত্রণ এলেও তা যাতে সাধারণ মানুষ এড়িয়ে যান তাও জানানো হয়েছে।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ