সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ওয়াঘা সীমান্তের ওপারেও এনআরএস কাণ্ডের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ‘ইয়ং ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অফ পাকিস্তানের’ পক্ষ থেকে ভারতের পূর্ব প্রান্তের রাজ্যের জুনিয়র চিকিৎসকদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

দুই দেশের সীমান্তের মধ্যে সম্পর্ক ভালো হওয়ার কোনও বিশেষ লক্ষণ দেখা যায়নি। সম্প্রতি জঙ্গি হানায় প্রাণ গিয়েছে জম্মু কাশ্মীরের নিরাপত্তারক্ষী বাহিনীর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফের ক্ষমতায় আসার পর জানা গিয়েছে তিনি বিদেশ সফরের সময় পাক আকাশ সীমা দিয়ে যাবেন না। এমন এক সময়ে চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়িয়ে সহমর্মিতার বার্তা এল পাকিস্তান থেকে।

ইয়ং ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অফ পাকিস্তানের’ প্রেসিডেন্টডঃ কাসিম আওয়ান বলেন, “পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ভারতের তরুণ চিকিৎসকদের জন্য সবরকম সহমর্মিতার দরজা খোলা রয়েছে। আমরা আক্রান্ত চিকিৎসকদের আন্দোলনের পক্ষে। আমরা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দায়সারা মন্তব্য এবং কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” ওয়াঘার অপর পাড়ের এই সংগঠনের মুখপাত্র ডঃ উমর শফিক জানিয়েছেন, “পুলিশের কাজ হল সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। তাদের কাজ অসামাজিক কাজের বিরুদ্ধে গিয়ে লাঠি চালানো। আর চিকিৎসকদের কাজ হল মানুষের জীবন রক্ষা করা।”

সংগঠনের মিডিয়া সেলের প্রধান ডঃ আখিব জাভেদ মালঘানি বলেন, ” যে কোনও দেশের যে কোনও রাজ্যের বা কোনও প্রশাসনের কাজ হল যারা জীবন বাঁচায় তাদের সুরক্ষা দেওয়া। তাদের কাজ করার জন্য সুস্থ পরিবেশ তৈরি করে দেওয়াই একটি সরকারের কাজ বলে আমাদের মনে হয়। ” প্রসঙ্গত সোমবার রাতে রোগী মৃত্যু ঘিরে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এনআরএস। রোগীর পরিবার ও চিকিৎসকদের মধ্যে গন্ডগোলে জখম জুনিয়র ডাক্তার। প্রতিবাদে মঙ্গলবার দিনভর অচলাবস্থা জারি থাকে।

বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে হুঁশিয়ারি দেন, ৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগ দিতে হবে আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের। না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। এতেই পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে যায়। আন্দোলন আরও জোরদার হয়। শুরু হয় গণ ইস্তফা। আজ শুক্রবার রাজ্য জুড়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা কার্যত অচল। উলটে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়া উচিৎ এই দাবিতে আন্দোলনের সঙ্গে আরও বাড়ছে ইস্তফার সংখ্যা। এদিকে এই ঘটনায় অভিনেতাসহ সংসদ দেব পরিস্থিতি উন্নতির দাবি জানিয়েছেন। অপর্ণা সেনের মতো ব্যক্তিত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নম্র হওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসকদের পাশে থাকার বার্তা এসেছে। এমন কঠিন সময়ে ওয়াঘার ওপার থেকেও পাশে থাকার বার্তা।