নিউ ইয়র্ক: আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করতে চার ভারতীয় নাগরিককে ‘জঙ্গি’ হিসাবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল চিন এবং পাকিস্তানের। এই সম্পর্কে একপ্রকার নিশ্চিত সাউথ ব্লক। চলতি বছরের মে মাসে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারকে নিজেদের দেশে আশ্রয় দেওয়ার জন্য পাকিস্তান সরকারকে তুলোধোনা করেছিল ফ্রান্স এবং আমেরিকা। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার ‘বদলা’ নিতেই চার ভারতীয়কে বিশ্বের সামনে জঙ্গি হিসাবে তুলে ধরতে চাইছিল ইসলামাবাদ। এই বিষয়ে পাক সরকারকে সাহায্য করেছিল চিনও।

পাকিস্তানে বেশ কিছু ভারতীয় আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল দিল্লি। মোট তিন জনকে পাক সরকার নিশানা করেছে বলে খবর পেয়েছিল ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা। এবারে আরও একজনের নাম ও প্রকাশ করেছে দিল্লি। আপ্পাজি আঙ্গারা আফগানিস্তানের কাবুলে একটি ব্যাংকে সফটওয়্যার ডেভেলপার হিসাবে কাজ করতেন। চলতি বছরের জানুয়ারির ১৮ তারিখে কাবুল ছাড়ার সময়ে তাঁকে লাহোরের মল রোডে বিস্ফোরণের ঘটনায় সন্ত্রাসবাদী বলে অভিযুক্ত করে পাক সরকার। ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর পেশোয়ারের একটি আর্মি স্কুলে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয় তাঁকে।

গত ২৩ মে ভারতীয় হাই কমিশনের তরফ থেকে পাক বিদেশ মন্ত্রককে জানানো হয় বিশাখাপত্তনম নিবাসী প্রশান্ত ভাইন্দম সীমান্ত পেরোতে গিয়ে সম্ভবত পাকিস্তানের পাক রেঞ্জার্সদের হাতে ধরা পড়েছেন। কিন্তু এই বিষয়ে নীরব থেকেছে পাক বিদেশমন্ত্রক। ঠিক সেইভাবেই ১৩ নভেম্বর পাক ভূখণ্ডে ধৃত তিন সম্ভাব্য ভারতীয়-(রামদাস,বারি লাল, এবং জাসসি সিং)-এর সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের আধিকারিকদের সাক্ষাতের বিষয়টির ব্যাপারেও নিরুত্তর থাকে পাক প্রশাসন। ভারতীয় হাই কমিশনের তরফ থেকে চিঠি দিলেও তার কোনও জবাব দেয়নি ইসলামাবাদ।

গত সপ্তাহে পাক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লাল এবং ভাইন্দমকে তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পাক প্রশাসন। এখানেই শেষ নয়। আরও একটি রোমহর্ষক ঘটনা সামনে এনেছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। আফগানিস্তানের কাবুলে একটি কনসালটেন্সি সংস্থায় কর্মরত ভারতীয় নাগরিক গোবিন্দ পট্টনায়ক দুজ্ঞাভালাসাকে ১৭ নভেম্বর ভারতে ফিরিয়ে আনেন ভারতীয় নিরাপত্তা আধিকারিকরা। গোপন সূত্রে খবর মেলে গোবিন্দকে অপহরণ করে তাঁকে ‘জঙ্গি’ হিসাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চাইছে পাকিস্তান এবং চিন। এই ষড়যন্ত্রের কথা জানার পরেই তড়িঘড়ি গোবিন্দকে ভারতে ফেরান গোয়েন্দারা।

বিশ্বে জঙ্গিদের ‘আঁতুড়ঘর’ বলে পরিচিত পাকিস্তান। আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে সারা পৃথিবী তন্ন তন্ন করে খুঁজে সব শেষে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদেই তাঁর সন্ধান পায় আমেরিকা। শুধু লাদেনই নয় দাউদ ইব্রাহিম, হাফিজ সঈদ-সহ বিশ্বের তাবড় জঙ্গি নেতা পাক নাগরিক। বিশ্ব দরবারে ‘জঙ্গি দেশ’ এর তকমা ঘোচাতেই ধৃত ভারতীয়দের এবারে কূটনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে পারে ইসলামাবাদ। এই ঘটনাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন ভারতীয় কূটনীতিবিদরা।

একজন ভারতীয় বাদে কাউকেই এখনও পর্যন্ত উদ্ধার করতে কেন্দ্র। সূত্রের খবর অনুযায়ী হয়ত তিনজনকেই আফগানিস্তান থেকে অপহরণ করেছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। ঠিক যেমনভাবে ইরান থেকে প্রাক্তন নৌ-সেনা আধিকারিক কুলভূষণ যাদবকে। তিনজন ভারতীয়ের সঙ্গে ভারতীয় দূতাবাসের তরফ থেকে দেখা করার আবেদন নাকচ করে দেয় পাকিস্তান। ভারতের ভাবমূর্তির যাতে আর ক্ষতি না হয় সেই জন্যে এবার আমেরিকার দ্বারস্থ হয়েছে ভারত।