শ্রীনগরঃ দেশজুড়ে শুধু নয়, গোটা বিশ্বজুড়ে যখন মার‍ণব্যাধি করোনা ভাইরাসকে মোকাবিলার কৌশলের খোঁজ চলছে ঠিক সেইসময় ভারতকে লক্ষ্য করে গোলাগুলি শুরু হয়েছে। সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান।

জানা গিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারা সেক্টরে চলছে ব্যপক গুলির লড়াই। শক্তহাতে জবাব দিচ্ছে ভারতীয় সেনা।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিজবেহারায় ভয়াবহ ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট। যদিও উপত্যকায় ইসলামিক স্টেটের অস্তিত্ব বেশ অল্প। হামলার স্বীকারোক্তিতে আইএস জানিয়েছে, “খলিফাদের সৈন্যরা কাশ্মীরের বিজবেহারা এলাকায় ভারতীয় পুলিশদের জমায়েতকে নিশানা করেছে”।

শ্রীনগর থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে বিজবেহারার ওই হামলায় প্রধান কনস্টেবল শিব লাল নিতাম মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যেবেলা খবর মেলে ওই এলাকায় লুকিয়ে রয়েছে বেশ কিছু জঙ্গি। এরপরেই তৎপর হয়ে ওঠে বাহিনী। দীর্ঘ ১৪ ঘন্টা জঙ্গিদের অবরুদ্ধ রাখার পর শুরু হয় গুলির লড়াই। সেই লড়াইয়েই নিকেশ হয় জঙ্গি কমান্ডার।

অন্যদিকে, রবিবারও জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে ৫ জঙ্গিকে খতম করে জওয়ানেরা। শহিদ মোট ৫ জওয়ান। তবে শনি রবিবার মিলে নিকেশ করা হয় মোট ৯ জঙ্গিকে। জম্মু ও কাশ্মীরের কেরান সেক্টরে কুপওয়াড়ায় এই জঙ্গিদমন আভিযান চালিয়েছিল। গত ৩ এপ্রিল থেকে এই অভিযান চলছে।

করোনা ভাইরাসের মারণ ভয় থাকা সত্ত্বেও লাইন অফ কন্ট্রোলে ২০২০ থেকেই ছড়িয়েছে সংঘাত। কখনও ভারতীয় সেনা বনাম পাক সেনা আবার কখনও ভারতীয় সেনা বনাম জঙ্গি সংগঠন বারেবারেই উত্তপ্ত হয়েছে কাশ্মীর।

পরিসংখ্যান জানাচ্ছে, বছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জানুয়ারিতে মোট ৩৬৭বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। ফেব্রুয়ারির ২৯ দিনে সংখ্যাটা ৩৬৬। আর মার্চে তো সীমা অতিক্রম করেছে পাকিস্তান। মার্চ মাস জুড়ে মোট ৪১১ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই ইতিমধ্যে ৫৩ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে।

২০১৯ সালে বছরের প্রথম তিন মাসে পাকিস্তানের তরফে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছিল ৯১৯ বার, ২০১৮ সালে সেই সংখ্যাটা ছিল ৮০২ বার। আর এবার ২০২০ সালে প্রথম তিন মাসে ঘটেছে মোট ১১৪৪ বার। অর্থাৎ করোনা পরিস্থিতি থাকলেও নিজের কাজ করে যাচ্ছে পাকিস্তান।