জম্মু: শনিবার ফের সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করল পাকিস্তান। জম্মুর পুঞ্চ জেলার দেগওয়ার সেক্টরে এদিন বিকেলে এই ঘটনা ঘটেছে। লাইন-অফ-কন্ট্রোলে টানা মর্টার শেলিং চালায় পাকিস্তান।

জানা গিয়েছে, বিকেল ৩টে ৪৫ মিনিটে পাকিস্তান মর্টার শেলিং শুরু করে। বিনা প্ররোচনায় নিয়ন্ত্রণ রেখায় শেলিং চালিয়েছে। তবে শক্তহাতে পাকিস্তানকে জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনা।

সোমবার রাতে জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারার তাংধর সেক্টরে পাকিস্তানের গুলিবর্ষণে একজন নাগরিক এবং অন্য চারজন আহত হয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান এলোপাথারি শেলিং এবং গুলি চালিয়েছে ভারতের প্রতিরক্ষায় এবং লাইন-অফ-কন্ট্রোল লাগোয়া গ্রামগুলিতে গুলি চালানো হয়েছে।

ফেব্রুয়ারির ২ তারিখেই পাকিস্তানের তাংধর সেক্টরে, গুড়েজ এবং বালাকোট এবং মেনধর সেক্টরে পরপর সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করা হয় যেখানে একাধিক সেনা আহত হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।

ভূ-স্বর্গে ভয়াবহ আক্রমণ চালাতে পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে জম্মু ও কাশ্মীরের জঙ্গিরা যার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে নতুন প্রযুক্তির, নাগরোটা জেলায় এনকাউন্টারে তিনজন জঈশ-ই-মহম্মদের জঙ্গিকে নিকেশ করার পরেই প্রকাশ্যে এসেছে এমন তথ্য।

সূত্রের খবর, এনকাউন্টারের পরে তল্লাশি অভিযানে নিরাপত্তাবাহিনী ইয়ুইয়ু স্টক মার্কেট সিস্টেম (YSMS) এবং আইকম রেডিও (icom) সেট যার সাহায্যে জঈশ জঙ্গিরা পাকিস্তানের মাস্টারমাইণ্ডদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

সেনা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রযুক্তির ব্যবহার করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের আলফা-৩ যা জঈশ-ই-মহম্মদের মেন যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত। আলট্রা হাই ফ্রিকোয়েন্সি (UHF) রেডিও সিগন্যাল ব্যবহার করে এই যোগাযোগ স্থাপন করা হয়। আলট্রা হাই ফ্রিকোয়েন্সি এনক্রিপটেড সিগন্যাল পাঠায় যা সিম ছাড়া যেকোনও মোবাইলেই ব্যবহার করা সম্ভব।

যদিও এটা প্রথমবার নয় যেখানে নিরাপত্তাবাহিনী এইরকম তথ্য পেয়েছে। ২০১৫ সালে, একজন পাকিস্তানি জঙ্গি সাজ্জাদ আহমেদ যাকে উত্তর কাশ্মীরের রাফিয়াবাদে আটক করা হয়েছিল সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে একই মেথড ব্যবহার করা হয়েছে। সেইসময় একটি ওয়্যারলেস ফোন ব্যবহার করা হয়েছে যেখানে YSMS সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে।

২০১৯ সালের ভয়াবহ পুলওয়ামা হামলাতেও তদন্ত করে দেখা গিয়েছে এই একই প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে।