শ্রীনগর: দুদিন আগেই সাদা পতাকা উড়িয়ে ভারতীয় সেনার মারে খতম হওয়া জওয়ানদের মৃতদেহ আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে তুলে নিয়ে যায় পাকিস্তান সেনা। যা ভারতীয় সেনার ক্যামেরায় স্পষ্ট ধরা পড়ে৷ তবে তার পরেও নির্লজ্জ পাকিস্তান৷

সোমবার সকালে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভারত পাকিস্তান সীমান্ত৷ বালাকোটের নিরীহ গ্রামবাসীদের লক্ষ্য করে পাকিস্তানের গুলি বর্ষণ শুরু হয়৷ রবিবার রাত থেকেই সংঘর্ষবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছিল পাক রেঞ্জার্স৷ সোমবার সকালে তার মাত্রা বাড়ে৷

আরও পড়ুন : যোগীর রাজ্যে গো-মৃত্যুতে দেখা গেল হিন্দু-মুসলিম সংহতির ছবি

জম্মু কাশ্মীরের বালাকোট লক্ষ্য করে এই হামলা চলে৷ প্রত্যুত্তর দেয় ভারতীয় সেনাও৷ এখনও গুলির লড়াই চলছে৷ রবিবার দুপুরে বালাকোটের বাসিন্দারা ১২০ মিমির মর্টার শেল উদ্ধার করেন৷ এই বোমাটি অক্ষত অবস্থায় গ্রামের ভিতরেই পড়েছিল৷ তবে মর্টারটি ফাটলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল৷ সেনা সূত্রে খবর, মর্টারটির ওপর পাক চিহ্ন প্রমাণ করছে, পাকিস্তানি সেনারাই এই মর্টার হামলা করেছে৷

মর্টারটি খুব সাবধানে সরিয়ে নিয়ে যায় ভারতীয় সেনা৷ পরে নিরাপদ জায়গায় মর্টারটি ফাটিয়ে ফেলা হয়৷ গ্রামবাসীদের কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে সূত্রের খবর৷ জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার সীমান্তে ভারতীয় সেনা ছাউনি টার্গেট করে শেলিং চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান সেনা। শুধু সেনা ছাউনি টার্গেট করাই নয়, একেবারে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলিকেও টার্গেট করছে পাকিস্তান সেনা। অন্যদিকে ক্রশ ফায়ারিংয়ের আড়ালে লাগাতার সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে পাকিস্তান।

আরও পড়ুন : মোদী সরকারের আমলেও ভারতে গৃহহীনদের ৮৬ শতাংশ হিন্দু, বলছে সমীক্ষা

আন্তর্জাতিক আদালত থেকে বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রের কাছে ধাক্কা খেয়েও চোখ খোলেনি পাকিস্তানের৷ ভারত সীমান্তে তাদের হামলা অব্যাহত৷ চলতি বছরে দু’হাজারেরও বেশি বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। নিশানা করেছে সাধারণ মানুষকে। অথচ ভারতের বিরুদ্ধেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের কালি ছেটাচ্ছে পাকিস্তান। প্রায় একুশ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, এমনটাই জানাচ্ছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। পাশাপাশি পাকিস্তানের একাধিক অনুপ্রবেশ ও যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কথাও উল্লেখ করা হয় বিদেশমন্ত্রকের তরফে।

বিদেশমন্ত্রক রবিবার জানানয়, চলতি বছরে পাকিস্তান ২,০৫০ বারেরও বেশি অকারণে যুব্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যাতে ২১ জন ভারতীয় নাগরিকদের মৃত্যু হয়েছে। আমরা বারবার পাকিস্তানকে বলেছি ২০০৩ যুদ্ধবিরতি সমঝোতা মেনে তাদের সেনাদের নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সীমান্তরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্তরেখায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে।