ইসলামাবাদ: ২০৩০ সালের মধ্যে জনসংখ্যার বিস্ফোরণ ঘটবে পাকিস্তানে৷ বিশ্বের চতুর্থ জনবহুল দেশ হয়ে উঠবে পাকিস্তান৷ পাক সংবাদপত্র দ্য ডনে প্রকাশিত এক রিপোর্টে এমনই তথ্য উঠে এসেছে৷ বর্তমান পাক সরকারের অন্যতম মাথাব্যথার কারণ পাকিস্তানের জনসংখ্যা৷ এই মুহুর্তে পাকিস্তান জনবহুল দেশের তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে৷ বছর কয়েকের মধ্যেই আরও দুই ধাপ ওপরে উঠে আসতে পারে এই দেশ, এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে৷

রিপোর্টে বলা হয়েছে পরিবার পরিকল্পনার ওপর এখন থেকেই জোর না দিলে ভবিষত্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে৷ তবে পাক প্রশাসনের এই বিষয়ে মাথা ব্যথা নেই বলেও রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়েছে৷ কারণ এই ইস্যুতে পাক প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপই করা হচ্ছে না৷

 

এই ইস্যু নিয়ে সরব হয়েছেন করাচির ডাউ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরাও৷ পরিবার কল্যাণ ও পরিবার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বেশ কয়েকটি সচেতনতা মূলক প্রকল্প চালু করা উচিত পাক সরকারের, বলে দাবি করেছেন তাঁরা৷ এই নিয়ে আলোচনাও চালানো উচিত বলে মত তাঁদের৷

রিপোর্ট আরও বলছে পাকিস্তানের শহরগুলির মধ্যে সবচেয়ে জনবহুল শহর করাচি। শুধু তাই নয়, বিশ্বের সপ্তম মহানগরী৷ প্রতি মাসেই পাকিস্তানের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল থেকে ৪৫ হাজার মানুষ এই শহরে বাস করতে আসেন৷ ফলে করাচির অর্থনীতিও প্রতি বছর শতকরা ৫ ভাগ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে জনসংখ্যাও। ১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল, এই কয়েক বছরের পরিসংখ্যান দেখলেই মিলবে পার্থক্য৷ গত এক বছরে এক কোটি ৬০ লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করতে শুরু করেছে এই শহরতলিতে।

প্রতি বর্গ কিলোমিটারে করাচিতে ৬ হাজার লোকের বসবাস। যদিও অনেকের দাবি, করাচিতে ২ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। তবে, এর সত্যতা যেমনই হোক—২০৩০ সালের মধ্যে করাচির শহুরে জনপদে লোকসংখ্যা হবে কমপক্ষে ২ কোটি ৪৮ লাখ বা তারও বেশি। আর এটিই হবে পাকিস্তানের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা।